Ajker Patrika

জনসংখ্যা বেশি দেখাতে আদমশুমারিতে ২০০০ ভুয়া বাসিন্দা, তদন্তের মুখে জাপানের এক শহর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জনসংখ্যা বেশি দেখাতে আদমশুমারিতে ২০০০ ভুয়া বাসিন্দা, তদন্তের মুখে জাপানের এক শহর
জনসংখ্যা কমে যাওয়ার মুখোমুখি এশিয়ার দেশ জাপান। ছবি: সংগৃহীত

জনসংখ্যা কমে যাওয়া সমস্যার মুখোমুখি এশিয়ার দেশ জাপান। একই সঙ্গে দ্রুত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সমস্যায়ও আছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে এক নতুন অভিযোগ উঠে এসেছে দেশটির এক শহরের বিরুদ্ধে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, জাপানের মধ্যাঞ্চলের তোয়ামা শহরের কর্মকর্তারা সর্বশেষ আদমশুমারিতে জনসংখ্যার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় সরকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের পর গত শনিবার তোয়ামা শহরের সিটি হলে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনসংখ্যায় ২ হাজারের বেশি মানুষ যোগ করেছেন।

আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ বরাদ্দ করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের একটি হিসাব অনুযায়ী, আদমশুমারি জালিয়াতির পর তোয়ামা শহর প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৬ কোটি ইয়েন (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৬ টাকা) বেশি অর্থ পেয়ে থাকতে পারে।

গত বছর দেশটির ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। অন্যদিকে জনসংখ্যা কমার হার আরও দ্রুত হচ্ছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

জাপানের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তোয়ামার প্রকৃত জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৭ জন। অথচ মে মাসে প্রকাশিত তথ্যে জনসংখ্যা দেখানো হয়েছিল ৪ লাখ ২ হাজার ১৩৩ জন।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদমশুমারির কর্মীরা শুরুতে যেসব পরিবারকে খালি বা জনশূন্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, সেসব পরিবারের সদস্যসংখ্যা পরিবর্তন করে ২ হাজারের বেশি বাসিন্দার তথ্য মিথ্যাভাবে যোগ করেছেন।

জাপান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন তোয়ামার মেয়র হিরোহিসা ফুজিই। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে আমি যথাযথ দায়িত্ব নেব।’

জাপানের আইনে পরিসংখ্যান জাল করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডও হতে পারে।

গত মাসে অনিয়মের অভিযোগের খবর প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর জাপানের পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্যুরোর আদমশুমারি বিভাগের পরিচালক আকিহিরো তামুরা তখন বলেছিলেন, ‘দেশের সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত জরিপে এ ধরনের অনুপযুক্ত কাজ ঘটায় আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’

জাপানে প্রতি পাঁচ বছর পরপর জাতীয় আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ আদমশুমারির হিসাবে, বিদেশি বাসিন্দাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর জাপানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ। ২০২০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৩১ লাখ ৭০ হাজার কম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত