Ajker Patrika

শ্রীলঙ্কার অদূরে ১৮০ আরোহী নিয়ে ডুবে গেছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন হামলার আশঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
শ্রীলঙ্কার অদূরে ১৮০ আরোহী নিয়ে ডুবে গেছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন হামলার আশঙ্কা
ইরানের ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা। ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণের সমুদ্রসীমার বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক নাটকীয় ঘটনায় ডুবে গেছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ। সূত্রগুলো বলছে, এটি সম্ভবত পানির নিচ থেকে চালানো কোনো হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় সাবমেরিন জড়িত থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি সামুদ্রিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন বহু নাবিক।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম আইআরআইএস দেনা। আজ বুধবার ভোরের দিকে এটি বিপদসংকেত পাঠায়। সে সময় জাহাজটি গালে উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। জাহাজটিতে আনুমানিক ১৮০ জন নৌসদস্য ছিলেন। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে ঘটেছে।

পরিস্থিতির অবগত কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নন—এমন নিরাপত্তা সূত্রগুলো দাবি করছে, জাহাজটিতে পানির নিচের অংশে আঘাত হানা হয়েছিল। এতে টর্পেডো বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া অন্য কোনো পানির নিচের অস্ত্র ব্যবহারের সন্দেহ জোরালো হয়েছে। তবে ইরান বা শ্রীলঙ্কা—কোনো দেশই এখনো ডুবে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তদন্ত চলছে।

শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। জানা যায়, জাহাজে পানি ঢুকছিল এবং সেটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ সমুদ্র এলাকা থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গালের কারাপিটিয়া টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি প্রটোকল দ্রুত সক্রিয় করা হয়। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিমান মোতায়েন করেছে।

পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, প্রাপ্ত বিপদসংকেত থেকে বোঝা যায় জাহাজটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। এ কারণে শ্রীলঙ্কা দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদান করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধজাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার ভেতরে না থাকলেও কোনো বিলম্ব না করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ইরান সংঘাত ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদি এটি সত্যিই পানির নিচ থেকে চালানো হামলা হয়ে থাকে, তাহলে তা হবে পরিস্থিতির বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি। এর সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

আইআরআইএস দেনা ছিল ইরানি ইসলামিক রিপাবলিক নৌবাহিনীর সাউদার্ন ফ্লিটের একটি ‘মৌজ’ শ্রেণির ফ্রিগেট। সম্প্রতি এটি ভারতের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ–২০২৬ এ অংশ নেয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ নৌসমাবেশে বহু দেশের নৌবহর অংশ নেয়। সামুদ্রিক সহযোগিতার প্রদর্শনী হিসেবেই এটি বিবেচিত হয়।

ফ্লিট রিভিউ এবং এক্সারসাইজ মিলান ২০২৬–এ অংশ নেওয়ার পর ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতে নোঙর করে। সেখান থেকে নিজ দেশে ফেরার পথে ছিল এটি। ইরানের মাউন্ট দেনা পর্বতের নামানুসারে জাহাজটির নামকরণ করা হয়। এতে উন্নত রাডার ব্যবস্থা, সারফেস-টু-এয়ার ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো এবং দেশীয়ভাবে নির্মিত ইঞ্জিন ছিল। এর আগে এটি দীর্ঘ-পাল্লার বিভিন্ন মিশন সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে বৈশ্বিক ৩৬০-ডিগ্রি অভিযানে অংশগ্রহণও রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। হতাহতের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা বা বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সন্দেহজনক শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের একটি সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ হারিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নজর কাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত