
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন সময়ের সঙ্গে এক দৌড়ে নেমেছে। আকাশযুদ্ধে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে এই লড়াই কত দ্রুত শেষ করা যাবে—সেই প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই শক্তি দ্রুত ও নির্ভুল হামলার মাধ্যমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করতে চায়। লক্ষ্য একটাই—দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধ এড়িয়ে দ্রুত কৌশলগত সাফল্য অর্জন।
প্রথম দৃষ্টিতে এটি অসম লড়াই মনে হতে পারে। উন্নত বিমানশক্তি, সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এগিয়ে। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেই দ্রুত বিজয় নিশ্চিত হয় না। বরং বিপুল পরিমাণ ব্যয়বহুল প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গত বছরের অভিযানে ইসরায়েলের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বিশেষ করে অ্যারো-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল দেশটির। তখন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে এসএম-২, এসএম-৩ ও এসএম-৬ সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার এবং স্থলভিত্তিক থাড ব্যবস্থা মোতায়েন করে। ২০২৫ সালের জুনের সংঘাতে ইরান ৬৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রায় ৫০০টি ইসরায়েলের আকাশসীমায় পৌঁছায়। ইসরায়েল এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ৮৬ শতাংশ ভূপাতিত করার দাবি করলেও এর জন্য বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়, যা অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বড় চাপ তৈরি করে।
এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আধুনিক নির্ভুল অস্ত্রভিত্তিক যুদ্ধও ক্ষয়যুদ্ধের মৌলিক বাস্তবতা এড়াতে পারে না। অতীতে ‘শেল হাঙ্গার’ যেমন বড় শক্তিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল, ২১শ শতকে এর জায়গা নিয়েছে প্রিসিশন মিউনিশনের ঘাটতি। উৎপাদন ধীর ও ব্যয়বহুল হওয়ায় চলমান যুদ্ধে দ্রুত নতুন সরবরাহ পাওয়া কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ‘মাল্টিডোমেইন অপারেশনস’ (এমডিও) আলোচনায় এসেছে। ধারণাটি হলো—আকাশ, স্থল, সমুদ্র, সাইবার, মহাকাশ ও তথ্যক্ষেত্রে সমন্বিত আঘাত হেনে শত্রুর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া। পরিকল্পনাকারীরা বিশ্বাস করেন, দ্রুত ও সমন্বিত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে মানিয়ে নেওয়ার আগেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। বর্তমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যও এমন—ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বিপর্যস্ত করে দীর্ঘ সংঘাত এড়ানো।
তবে বাস্তবতা প্রায়ই তত্ত্বের সঙ্গে মেলে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তার উদাহরণ। উন্নত ড্রোন, দীর্ঘ পাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র ও আধুনিক কমান্ড ব্যবস্থার পরও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে। কেউ দ্রুত বিজয় পায়নি; বরং উভয় পক্ষই ক্লান্তি ও ক্ষয়ের কৌশল নিয়েছে।
একইভাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেও দেখা গেছে, দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযান ও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি প্রয়োজন হয়েছে।
ইরানও এই বাস্তবতা জানে। তাই তারা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশটি বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে চায়। যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ১,২০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের দাবি করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে ইরানের ২০০ টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।
পরিস্থিতি তাই অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্রুত সাফল্য চায়, কারণ সময় যত বাড়বে, মজুত তত কমবে এবং ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে ইরান সময়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তাই সামরিক ভাষায় বলা যায়—ঘড়ি হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে, কিন্তু সময় ইরানের পক্ষে। এই দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং সহনশীলতা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও রাজনৈতিক লক্ষ্য কতটা টেকসই তার ওপর।
ফরেন পলিসি অবলম্বনে

ইরান যুদ্ধের ময়দান বলে দিচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘এআই-চালিত ড্রোন যুদ্ধে’। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং এর জবাবে তেহরানের আকাশপথে পাল্টা আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই এক নতুন রণকৌশল ফুটে
৮ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান আগেই সতর্ক করেছিল—দেশটির ওপর কোনো হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, অথবা তারা মনে করেছিল এই ঝুঁকি নেওয়া যায়। যুদ্ধ শুরুর ১১ দিন পর দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, তেহরান দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধগুলোকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছে। উদ্দেশ্য এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার ফলে রাজধানী বোমায় বিধ্বস্ত হলেও সারা দেশ লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।
১৬ ঘণ্টা আগে