Ajker Patrika

রাশিয়ার তেল আসা বন্ধ, পাইপলাইন পরিদর্শন করতে দিতে ইউক্রেনকে ইইউর চাপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৫৮
রাশিয়ার তেল আসা বন্ধ, পাইপলাইন পরিদর্শন করতে দিতে ইউক্রেনকে ইইউর চাপ
রাশিয়া থেকে দ্রুজভা পাইপলাইন হয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায়। ছবি: এএফপি

রাশিয়া থেকে হাঙ্গেরি-স্লোভাকিয়ায় যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুজভা তেল পাইপলাইন পরিদর্শনে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুমতি দিতে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ছে। দুই দেশের নেতারা কিয়েভের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইনের ক্ষতির প্রভাব ইউক্রেন বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দাবির জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনী একাধিকবার দ্রুজভা তেল পাইপলাইনে বোমা হামলা চালিয়েছে। এমনকি মেরামতের কাজে নিয়োজিত ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিবিদদের ওপরও হামলা হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘অরবান কেন রুশদের বোমা হামলার জন্য অভিযুক্ত করেননি? আমি ইতিমধ্যে (স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট) ফিকোকে ব্যাখ্যা করেছি—পাইপলাইন ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি মেরামতে যুদ্ধবিরতি দরকার। আর সেটি (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির) পুতিনকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।’

ইউক্রেন দাবি করেছে, পাইপলাইন মেরামতে আরও সময় প্রয়োজন। কিন্তু হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া জোর দিয়ে বলছে, কিয়েভ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘নল বন্ধ করে দিয়েছে।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই তেল পাইপলাইনের বিষয়টি ভিক্টর অরবানের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সরকারঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় শুধু ইউক্রেনের কথাই উল্লেখ করেছে, রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার কোনো উল্লেখ করেনি। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বারবার অভিযোগ করেছেন, দ্রুজবা তেল পাইপলাইন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হাঙ্গেরির পাশে দাঁড়ায়নি।

পাঁচ ইইউ কূটনীতিক ও কর্মকর্তার বরাতে ফিন টাইমস জানায়, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউক্রেনপন্থী কয়েকটি ইইউ সরকারও কিয়েভকে পরিদর্শনের অনুমতি দিতে বলছে, যাতে ইইউ যাচাই করতে পারে যে ইউক্রেন সত্যিই পাইপলাইন মেরামতে উদ্যোগ নিচ্ছে কি না। দুই কূটনীতিক জানান, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সম্প্রতি কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তাঁরা পাইপলাইনের পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ পান। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইউক্রেন এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তেলের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং জ্বালানি দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন ইতিমধ্যে তেল পাইপলাইনের অবস্থা সম্পর্কে ইইউকে যথেষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করেছে। ইউক্রেনীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোগ্যাজের মালিক সেরহিয় কোরেৎসকি জানান, রুশ হামলায় প্রায় ৭৫ হাজার ঘনমিটার তেলসমৃদ্ধ একটি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। এতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তিনি বলেন, আগুনের ব্যাপ্তি বিবেচনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে আরও সময় লাগবে। পাশাপাশি মেরামতের কাজ শ্রমিকদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

জেলেনস্কি বলেন, তাঁর বিশ্বাস অরবান নির্বাচনী প্রচারে তেল পাইপলাইনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চান। ইউক্রেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত কাতারিনা মাথেরনোভাও ইইউ কূটনীতিকদের পাইপলাইন পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইউক্রেন সেই অনুরোধও নাকচ করে।

সোমবার হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ছবিতে স্পষ্ট যে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুজভা তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে কোনো কারিগরি বাধা নেই। জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘স্যাটেলাইট থেকে রিজার্ভার দেখা যায়। একটি বড় রিজার্ভার ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে, সেটিও দেখা যায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্যাটেলাইটে দেখা যায় না। পাইপলাইন মাটির নিচে। মাটির নিচে কী ঘটছে, অরবান তা কীভাবে দেখলেন? আমি বিস্মিত। তবে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত