
ইরানে চলমান বিমান হামলার ধরন শিগগিরই বদলে যেতে পারে—এমনটাই বলছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাজ্য সিদ্ধান্ত বদলে মার্কিন ভারী বোমারু বিমানকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) আঘাত হানার সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বাড়তে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আগে ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বিমানকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিল। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মার্কিন বিমানবাহিনীকে গ্লুচেস্টারের ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ এবং ভারত মহাসাগরের ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল স্যামি স্যাম্পসন ও আইআইএসএস বিশ্লেষক সাশা ব্রুখমানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুমতি পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ ও বি-১ বোমারু বহরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
বি-৫২ স্ট্র্যাটোফরট্রেস একাই সর্বোচ্চ ৮৪,৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৩৮ হাজার কেজি) বোমা বহন করতে পারে, যা এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের তুলনায় চার গুণেরও বেশি। প্রতিটি বি-৫২ সর্বোচ্চ ৩০টি ‘জিবিইউ-৩১ জেডিএএম’ (৯০০ কেজি) বহন করতে সক্ষম। অন্যদিকে বি-১ ল্যান্সার বহন করতে পারে ২৪ টি। সেই তুলনায় বর্তমানে ব্যবহৃত মার্কিন এফ-১৫ সাধারণত ৬ থেকে ৯টি জেডিএএম নিয়ে উড়তে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বড় আকার এখন বড় পার্থক্য গড়ে দেবে এবং এই অভিযান নতুন মাত্রা পাবে।
এয়ারপাওয়ার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সিস টুসা বলেছেন, বি-৫২ স্ট্র্যাটোফরট্রেসকে ‘ড্যাডি অব বোম্বারস’ বলা হয় তার বিপুল বহনক্ষমতার কারণে। এ ছাড়া বি-১ ল্যান্সার এবং বি-২ স্পিরিটও একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক নির্ভুল বোমা ফেলতে পারে। আর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে দীর্ঘ ৩.২ কিলোমিটার রানওয়ে, বিপুল অস্ত্রভান্ডার ও বি-২-এর জন্য বিশেষ সুরক্ষিত শেল্টার থাকায় ভারী বোঝাই অবস্থায় বোমারু বিমান ওঠানামা সহজ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারী বোমারু মোতায়েনের ফলে জর্ডানে অবস্থানরত এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধে বেশি ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে ‘এমকিউ-৯ র্যাপার’ ড্রোনের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সতর্ক বার্তায় বলেছেন, ‘বড় ঢেউ’ আকারে হামলা এখনো বাকি। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, সামরিক অবকাঠামো এমনকি আইআরজিসি ও অন্যান্য বাহিনীর ওপরও লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ ও শক্ত সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোকে টানা ও ভারী বোমাবর্ষণের মাধ্যমে অচল করে দেওয়াই হবে মার্কিন নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য।

ইরান যুদ্ধের ময়দান বলে দিচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘এআই-চালিত ড্রোন যুদ্ধে’। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং এর জবাবে তেহরানের আকাশপথে পাল্টা আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই এক নতুন রণকৌশল ফুটে
৯ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান আগেই সতর্ক করেছিল—দেশটির ওপর কোনো হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, অথবা তারা মনে করেছিল এই ঝুঁকি নেওয়া যায়। যুদ্ধ শুরুর ১১ দিন পর দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, তেহরান দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধগুলোকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছে। উদ্দেশ্য এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার ফলে রাজধানী বোমায় বিধ্বস্ত হলেও সারা দেশ লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।
১৭ ঘণ্টা আগে