Ajker Patrika

নেপালে ফের বন্যা: ভেসে গেছে বাড়ি-সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেপালে ফের বন্যা: ভেসে গেছে বাড়ি-সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত
ত্রিশূলী নদীর উপনদী বুড়ি গণ্ডকি নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পর এ বন্যা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফের আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে নেপালে। দেশটির গোরখা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে আজ রোববার হড়পা বানে ৩৫ টির বেশি বাড়ি ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। ত্রিশূলী নদীর উপনদী বুড়ি গণ্ডকি নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পর এ বন্যা হয়।

এ বন্যায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীকে আকাশপথে ও স্থলপথে মোতায়েন করা হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ছয়টায় নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৩ মিটারে পৌঁছায়। নদীর বিপৎসীমা ৫ মিটার হলেও পানির উচ্চতা এর অনেক ওপরে উঠে যায়। সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিটে পানির উচ্চতা দুই মিটারের বেশি বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এনডিআরআরএমএ সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বন্যায় সেতুসহ পানির উচ্চতা পরিমাপের কেন্দ্রটিও ভেসে গেছে। এ কারণে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।’

সংস্থাটি জানায়, বৃষ্টির কারণে এ বন্যা হয়নি। প্রাথমিক তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নদীর প্রবাহ কোনো কারণে আটকে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সেই বাধা ভেঙে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানিয়েছে এনডিআরআরএমএ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে নদীর পানি পুরোপুরি কালো ও ধূসর দেখা গেছে। ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে প্রবল বেগে নদীর পানি বয়ে যেতে দেখা যায়।

রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীসংলগ্ন ও ভাটির দিকের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নদীর তীর ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সেনাদের দল আকাশপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং স্থলপথে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে। ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে ছয়জনকে আকাশপথে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত একটি সমন্বিত কুইক রিঅ্যাকশন টিমকেও আকাশপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছ থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। হিমালয়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত ভোতেকোশি নদী বন্যার পানি ভাটির দিকে বয়ে নিয়ে যায়। এতে বাড়িঘর, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। প্রাণ হারান ১ হাজার ৪৫৭ জন এবং নিখোঁজ হন হাজারো মানুষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত