Ajker Patrika

১৪ বছর পর একই পরিবারের আরও দুজনকে হত্যা করল সেই বুনো হাতিটি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
১৪ বছর পর একই পরিবারের আরও দুজনকে হত্যা করল সেই বুনো হাতিটি
প্রতীকী ছবি: এএফপি

নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় ১৪ বছর ধরে একই পরিবারের পিছু নেওয়া একটি বুনো হাতি আবারও হামলা চালিয়ে ওই পরিবারের দুই সদস্যকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি দেশটিতে মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ‘ধুরবে’ নামে পরিচিত দাঁতাল ওই হাতিটি ২০১২ সালে চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কাছে শনিচারা বোতের বাবা-মাকে হত্যা করেছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার আশায় পরিবার নিয়ে রাপ্তি নদী পার হয়ে কয়েক মাইল দূরের জগৎপুর এলাকায় বসতি গড়েন শনিচারা। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে একই হাতি সেখানে পৌঁছে তাঁর ২৫ বছর বয়সী পুত্রবধূ আশিকা বোতে এবং চার বছরের নাতি ভারত বোতেকে হত্যা করেছে।

শোকাহত শনিচারা বোতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বড় একটি নদী পার হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলে নিরাপদ থাকবেন বলে তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ১৪ বছর পরও একই হাতি তাদের খুঁজে বের করেছে। এখন আর পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের তথ্য কর্মকর্তা অবিনাশ থাপা মাগার জানান, ২০১০ সাল থেকে ধুরবে অন্তত ২৫ জনকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে উদ্যানে চোরা শিকারবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত দুই সেনাসদস্যও রয়েছেন। আক্রমণাত্মক স্বভাবের এই হাতিটির চলাচল পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং কলার ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৪ জুলাই সর্বশেষ হামলার দিন ট্র্যাকারের তথ্যেও হাতিটির অবস্থান ঘটনাস্থলের আশপাশেই দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের চুরে-তেরাই অঞ্চলে মানুষের বসতি ক্রমেই হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থলের দিকে বিস্তৃত হওয়ায় এমন সংঘাত বাড়ছে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতি দল ছেড়ে একা চলাফেরা শুরু করলে বন ও গ্রামের সীমান্ত এলাকায় মানুষের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ২০২৫-২০৩৫ সালের ‘এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান’-এও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলের হাতির সম্ভাব্য আবাসস্থলের অর্ধেকের বেশি সংরক্ষিত এলাকার বাইরে।

জানা যায়, ২০১২ সালে প্রথম হত্যাকাণ্ডের পর ধুরবেকে ধরতে বা হত্যা করতে ৯৩ জন সেনাসদস্যের বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হাতিটিকে দুবার গুলি করা হলেও তাকে আটক করা যায়নি। পরে ২০১৬ সালে আবার দেখা গেলে তার গলায় ট্র্যাকিং কলার পরানো হয়। প্রথম কলার অকার্যকর হয়ে পড়ায় ২০২০ ও ২০২৩ সালে আরও দুটি নতুন কলার লাগানো হয়, যা প্রতি ঘণ্টায় অবস্থানের তথ্য পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলার আগে কয়েক দিন ধরেই গ্রামটির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল ধুরবে। তবে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলার সময় শনিচারা বোতের স্ত্রী শুকনো খড় জ্বালিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও তাদের বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়। এখন ৯ সদস্যের পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, যাওয়ার মতো আর কোনো নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত