Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৪৫
ইরান যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যকে এক দ্রুত অবনতিশীল সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সিনেটর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে এই সতর্কবার্তা দেন মারফি। এই সিনিয়র সিনেটর লেখেন, ‘এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো অঞ্চলে এখন আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে।’

মারফি জানান, প্রথম সংকটটি দানা বাঁধছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। এটি অত্যন্ত সরু একটি নৌপথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়।

মারফির অভিযোগ, তেহরান এই রুটটি কতটা বিঘ্নিত করতে পারে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন ভুল ধারণা নিয়ে বসে ছিল। তিনি লিখেছেন, ‘ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না। তিনি ভুল ছিলেন। আর এখন তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।’

ডেমোক্রেট সিনেটর আরও বলেন, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবহারের কারণে এই জলপথ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এসব অস্ত্র সংখ্যায় অনেক বেশি এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে মার্কিন নৌবাহিনীকে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে বলে মনে করেন তিনি।

মারফির মতে, দ্বিতীয় সংকটটি তৈরি হয়েছে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা থেকে। তিনি লেখেন, ‘ইরান এই অঞ্চলের তেলের স্থাপনাগুলোতে অনির্দিষ্টকাল ধরে আঘাত হানতে পারে, কারণ তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে সস্তা ও মারণাস্ত্রবাহী ড্রোন রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলায় নৌ-চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টির দিকে আঙুল তুলে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধই প্রমাণ করেছে আধুনিক যুদ্ধ কতটা বদলে গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মারফি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে সামান্যতম মনোযোগ দিতেন, তবে তিনি বুঝতে পারতেন যুদ্ধকৌশল কীভাবে বদলে গেছে। কিন্তু তিনি তা করেননি। ফলে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে বসেছেন।’

একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে। যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর আগেই ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

মারফি বলেন, এই সংঘাত এখন ভৌগোলিকভাবেও ছড়িয়ে পড়ছে। লেবানন ও ইরাক থেকে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইসরায়েল এখন লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযানের হুমকি দিচ্ছে, যা নিজেই একটি নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

তিনি লিখেছেন, ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। লেবাননে ইরানের মিত্রগোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে এবং ইরাকে থাকা গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইসরায়েল এখন লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছে, যা নতুন একটি বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।’

এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক শান্ত থাকলেও মারফি মনে করেন, তারা দীর্ঘ সময় বসে থাকবে না। লোহিত সাগরে তাদের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষমতা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা ওই রুটের অনেকটা অংশ বন্ধ করে দিয়েছিল।

সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মারফি। তিনি বলেন, সিরিয়া আবারও বড় ধরনের সহিংসতার কবলে পড়তে পারে।

সিনেটর মারফির মতে, সবচেয়ে বড় সংকট হলো, এই যুদ্ধের ইতি টানা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের কোনো ‘এন্ডগেম’ বা শেষ পরিকল্পনা নেই। ইরান ও তাদের মিত্ররা অনির্দিষ্টকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যেতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ বা ‘আরমাগেডন’ (মহাপ্রলয়), যেখানে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হতে পারে। আবার মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করে পিছু হটলেও সমস্যার সমাধান হবে না, কারণ ইরানের কট্টরপন্থীরা ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলো আবারও তৈরি করে ফেলবে।

সবশেষে প্রশাসনকে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে মারফি বলেন, ‘এই পরিস্থিতির পূর্বাভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। সত্যি বলতে, আগের প্রেসিডেন্টরা এতটা বোকামি করে এ ধরনের যুদ্ধ শুরু করেননি। ট্রাম্প এখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হলো ক্ষতি কমিয়ে যুদ্ধ শেষ করা। বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানোর এটিই একমাত্র উপায়।’

আরও পড়ুন:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাদি হত্যা: ফয়সালদের সীমান্ত পার করা ফিলিপ সাংমার স্বীকারোক্তিতে নতুন তথ্য

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন: সময় শেষ, এখন কী হবে

প্রাকৃতিক দুর্গ ইরান কেন দুর্জেয়, স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের রাশিফল: অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি মারা বন্ধ করুন, মোবাইল পাসওয়ার্ড বদলান

সিরাজগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত