
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ) একটি কমিটির কাছে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস জানিয়েছেন, তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যকে হাতিয়ার করে বিতর্কিত মার্কিন বিনিয়োগকারী জেফরি এপস্টেইন তাঁকে ব্ল্যাকমেল বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র একটি রুদ্ধদ্বার শুনানির জন্য দেওয়া এক প্রস্তুতকৃত বিবৃতিতে বিল গেটস এই বিস্ফোরক দাবি করেন। ওই শুনানিতে বিতর্কিত ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত যোগাযোগ নিয়ে বিল গেটসকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত কীভাবে পরিচালনা করেছিল, মূলত তা খতিয়ে দেখতেই এই শুনানি আয়োজন করে প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স২৩ বিল গেটসের বিবৃতিটি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘সে (এপস্টেইন) তার এই ব্ল্যাকমেলের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি। তবে এটি স্পষ্ট যে, নিজের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিকে কীভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে আমার কখনোই দেখা করা উচিত হয়নি।’
লিখিত বিবৃতিতে বিল গেটস জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর পূর্বতন জানাশোনাকে একটি ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এপস্টেইনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে তিনি কখনো দেখেননি এবং নিজের পক্ষ থেকেও কোনো অন্যায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিল গেটস বলেন, ‘আমি যে ধরনের কাজ (দাতব্য কার্যক্রম) করি, সেখানে মানুষের জীবন বাঁচাতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত সুনাম। এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আমার বিচারবুদ্ধির একটি বড় ভুল ছিল এবং এটি আমার কাজকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, এপস্টেইনের আচরণ ও কর্মকাণ্ড ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য—অর্থাৎ ‘সবার জন্য একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার’ সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১১ সালে। এর কয়েক বছর আগেই, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এপস্টেইন।
বিল গেটস স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের আইনি জটিলতার বিষয়টি তিনি জানতেন, তবে সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপরাধের গভীরতা সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই এই পরিচয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলাম।’
২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিল গেটস ও এপস্টেইনের বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল একটি দাতব্য তহবিল (চ্যারিটেবল ডোনার-অ্যাডভাইজড ফান্ড) গঠনের সম্ভাবনা। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি এবং ২০১৪ সালের শেষের দিকে তাঁদের মধ্যকার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
আইনপ্রণেতাদের বিল গেটস জানান, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে এপস্টেইন তাঁর পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তাঁর ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটানোর বা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। গেটস জানান, পরে জনসমক্ষে আসা নথিপত্র থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এপস্টেইন তাঁর অনৈতিক সম্পর্কের (ইনফিডেলিটি) তথ্যগুলো ব্যবহারের জন্য কাজ করছিলেন।
২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে এপস্টেইন দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী যোগাযোগের বিষয়টি প্রথম সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। পরবর্তীতে ওই বছরের আগস্টে কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এপস্টেইনের।
হাউস ওভারসাইট কমিটি তাদের এই বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং খুচরা ব্যবসা খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব লেসলি ওয়েক্সনারসহ বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইআরজিসির এক শীর্ষ কমান্ডার। একই সময়ে প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী, যদিও এ দাবি অস্বীকার করেছে সেন্টকম।
২৫ মিনিট আগে
এর আগে ফরওয়ার্ড সি–মেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এফএসইউআই) সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘আমরা জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হইনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুইজন মারা গেছেন, আর প্রধান প্রকৌশলী এখনও নিখোঁজ হিসেবে আছেন।’
২ ঘণ্টা আগে
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১২ টির বেশি ওয়েবসাইট জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ, ভুয়া কনসালটিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল।
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড। তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালানো হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে