Ajker Patrika

দুবাইয়ে গিয়ে প্রেমিককে হত্যা, মৃত্যুদণ্ডের মুখে ব্রিটিশ টিকটকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১৯: ৫১
দুবাইয়ে গিয়ে প্রেমিককে হত্যা, মৃত্যুদণ্ডের মুখে ব্রিটিশ টিকটকার
ব্রিটিশ টিকটকার ব্রুক জর্জ। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক ব্রিটিশ টিকটক কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রুক জর্জ নামের ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে তাঁর পরিবার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেন্টের গ্রেভসেন্ড এলাকার বাসিন্দা ব্রুক জর্জ দুবাইয়ে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক উইলিয়াম ট্রিবির সঙ্গে দেখা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। প্রথম সফর ভালো গেলেও দ্বিতীয় সফরে ট্রিবির আচরণ বদলে যায় বলে দাবি করেছেন ব্রুক।

দুবাইভিত্তিক অধিকারকর্মী সংগঠন ডিটেইনড ইন দুবাই জানিয়েছে, ব্রুকের প্রতি ট্রিবি নিয়ন্ত্রণমূলক ও নির্যাতনমূলক আচরণ করতেন। ব্রুকের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় ট্রিবি তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণও করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বন্ধুদের সহায়তায় যুক্তরাজ্যে ফেরার বিমানের ব্যবস্থা করেন।

তবে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে আবার অ্যাপার্টমেন্টে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে বলে দাবি তাঁর। ব্রুকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পাসপোর্ট ফেরত চাইলে ট্রিবি তাঁকে ঘুষি মারেন এবং আক্রমণ করেন। জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে আত্মরক্ষার্থে কাছের একটি রান্নাঘরের ছুরি হাতে নিয়ে তিনি ট্রিবিকে আঘাত করেন। এতে ট্রিবির মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ব্রুক অ্যাপার্টমেন্ট ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

ব্রুকের মা থেরেজা জর্জ জানান, ঘটনার রাতে ব্রুককে অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় দেখেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্রুকের একটি চোখ ফুলে গিয়েছিল এবং তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্রুক কেবল নিরাপদে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন।

এদিকে ডিটেইনড ইন দুবাই অভিযোগ করেছে, ব্রুক বর্তমানে বুর দুবাই পুলিশ স্টেশনে আটক রয়েছেন। সেখানে তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে বিচারিক প্রক্রিয়া বুঝতেও অসুবিধায় পড়ছেন। সংগঠনটি ব্রুকের জন্য চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও ব্রিটিশ কনস্যুলারের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তকারীদের উচিত ব্রুককে শুধু অভিযুক্ত হিসেবে নয়, সম্ভাব্য নির্যাতনের শিকার হিসেবেও বিবেচনা করা। একই সঙ্গে তাঁরা ট্রিবির বিরুদ্ধে অন্য নারীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত