
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়েছে। এরপর, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন দেশে মার্কিন একাধিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের চালানো এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থার অংশ অথবা সেগুলোর আশপাশের স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপগ্রহচিত্র ও যাচাইকৃত ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
প্রকাশিত দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও অনুসরণে ব্যবহৃত রাডার ব্যবস্থার ওপর বা তার খুব কাছাকাছি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্যাটেলাইট ডিশ ও রাডোমও। রাডোম হলো বিশেষ আবরণ, যা সংবেদনশীল যন্ত্রপাতিকে আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গোপনীয়। ফলে ঠিক কোন কোন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে যেসব স্থানে হামলা হয়েছে, তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—ইরান মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও সমন্বয় সক্ষমতা ব্যাহত করতেই এই হামলা চালিয়েছে। গত জুনেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগ সক্ষমতার ওপর হামলা করেছিল। সে সময় তারা কাতারের একটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে, যে ঘাঁটিতে আবারও সপ্তাহান্তে হামলা হয়েছে।
এ ধরনের হামলা বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বশস্ত্রবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্ট এসব হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
গত রোববার বিকেলে তোলা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটির উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, স্যাটেলাইট ডিশে ঘেরা একটি তাঁবু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশপাশের কয়েকটি ডিশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ। প্রায় ছয় মাইল বিস্তৃত এলাকায় হাজারো সেনা সেখানে অবস্থান করে। এটি একই সঙ্গে সেন্টকম আঞ্চলিক সদরদপ্তর হিসেবেও কাজ করে। গত জুনে ১২ দিনব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে একই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত একটি রাডোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছিল ইরান।
কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, রোববার সকাল নাগাদ অন্তত তিনটি রাডোম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পূর্বে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশের অন্তত ছয়টি ভবন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। রোববার ধারণ করা উপগ্রহচিত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একই ঘাঁটির ওই এলাকাতেই আবারও হামলা হয়েছে। মঙ্গলবারের উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, স্যাটেলাইট সরঞ্জামের কাছাকাছি আরও দুটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইসের ঠিক বাইরে একটি সামরিক স্থাপনার নিম্ন-রেজোলিউশনের উপগ্রহচিত্রে রোববার কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এএন/টিপিওয়াই-২ নামে পরিচিত একটি রাডার ব্যবস্থা, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও অনুসরণে ব্যবহৃত হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সমন্বয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি গত বছরের জুন থেকে আঘাতপ্রাপ্ত একটি ভবনের পাশেই স্থাপিত ছিল বলে মনে হচ্ছে। তবে উপগ্রহচিত্র থেকে স্পষ্ট নয়, রাডার ব্যবস্থাটি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।
এরও প্রায় ১০০ মাইল পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও কম স্পষ্ট। রোববার ধারণ করা উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, একটি ফুটবল মাঠের সমান আয়তনের কম্পাউন্ডের ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন ও তাঁবুগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের বছরের চিত্রে ওই স্থানে স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনা দেখা গিয়েছিল। তবে সপ্তাহান্তের হামলার সময় সেগুলো সেখানে ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। সোমবার ধারণ করা উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী, একই ঘাঁটির ওই সাধারণ এলাকাতেই আবারও হামলা হয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ইরানি হামলায় দুবাই, ইরাক ও কুয়েতের আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন ধারণ করা উপগ্রহচিত্রে জর্ডানের মুয়াফ্ফাক্ব সালতি বিমানঘাঁটিতেও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। তবে এসব স্থানে যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো যোগাযোগ বা রাডার ব্যবস্থার কাছাকাছি বলে মনে হচ্ছে না।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানের আকাশে একটি উন্নত প্রযুক্তির হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। আজ বুধবার কেরমান শহরের উপকণ্ঠে এই ঘটনা ঘটে বলে তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
১৯ মিনিট আগে
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাঁকেই নিযুক্ত করা হোক না কেন, তাঁকে নির্মূল করা হবে।
৪৩ মিনিট আগে
দীর্ঘ এক দশকের সুক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভাবনীয় ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবারের এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সামরিক...
১ ঘণ্টা আগে
ইরানে আক্রমণের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। আর গত শনিবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে