Ajker Patrika

ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের সংলাপে ডাকছে সৌদি আরব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেওয়ায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীদের রিয়াদে সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই হস্তক্ষেপ করে আসছে। তবে তাদের জোটে ভাঙন দেখা দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে তারা এখন পরস্পরবিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে।

এই গোষ্ঠীগুলোর একটি বর্তমানে দক্ষিণ ইয়েমেনে পৃথক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত একটি বাহিনী যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি আরবের বিমান হামলার পাশাপাশি তাদের সমর্থিত স্থল বাহিনীও আক্রমণ চালিয়েছে।

সংলাপের বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতির ন্যায্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে রিয়াদে একটি সর্বাত্মক সম্মেলনের মাধ্যমে সব দক্ষিণাঞ্চলীয় পক্ষকে একত্র করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ইয়েমেন সরকারই এই আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা আগে থেকেই দরিদ্র দেশটিকে বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ সহিংসতা এবং খাদ্যসংকটের দিকে ঠেলে দেয়।

যুদ্ধের শুরুতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সরকারের কাছ থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা দখলে নেয়।

সেখানকার পরিস্থিতি ২০১৫ সালে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন সৌদি আরব, আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশের জোট ইয়েমেনে সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির ফলে হুতিদের সঙ্গে সংঘাত কিছুটা কমেছে এবং যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

তবে সৌদি-সমর্থিত শাসক জোট প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি); যা ২০২২ সালে বিভিন্ন হুতিবিরোধী গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল, সেই জোটে ফাটল ধরেছে।

একই সময়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রায় পুরো অঞ্চলই দখলে নিয়েছে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি), যা আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটেরই অংশ।

গত ২ ডিসেম্বর ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দিন দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা এসটিসি দেশটির পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দ্রুতই সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এসটিসির অগ্রযাত্রার মধ্যে সৌদি আরব সীমান্তঘেঁষা তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশও ছিল।

এসটিসি দাবি করে, দক্ষিণাঞ্চলে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই এই অভিযান প্রয়োজন ছিল। তবে পিএলসির প্রধান রাশাদ আল-আলিমি একে ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে আখ্যা দেন।

তাঁর মতে, এসটিসির ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ উদ্যোগ ইয়েমেনকে খণ্ডিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গতকাল হাদরামাউতে এসটিসির একটি সামরিক ক্যাম্পে চালানো বিমান হামলায় সাতজন নিহত হন বলে এসটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মুকাল্লায় বিমান হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আমিরাত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ জন্য সামরিক সরঞ্জামবোঝাই দুটি জাহাজ পাঠিয়েছিল। হামলায় হতাহতের খবর না মিললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ছবিগুলো ইঙ্গিত দেয়, এই হামলাগুলো সরাসরি আমিরাতের সরবরাহ করা সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত