Ajker Patrika

বৈশ্বিক কল্যাণের স্বার্থে ইরানে হামলা বন্ধ, চুক্তির খসড়ায় পৌঁছেছি: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০০
বৈশ্বিক কল্যাণের স্বার্থে ইরানে হামলা বন্ধ, চুক্তির খসড়ায় পৌঁছেছি: ট্রাম্প
ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার জানিয়েছেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আপাতত ইরানে তাদের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই মিত্র দেশ একটি চুক্তির খসড়া ফ্রেমওয়ার্কে পৌঁছেছে।

নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির অধীনে ‘হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথটি ইরানের কারণে অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তা সত্ত্বেও ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অনুরোধে আমরা সব ধরণের হামলা স্থগিত করেছি। কারণ, একটি চুক্তির মৌলিক বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বৈশ্বিক কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমি হামলা বাতিলের এই অনুরোধে রাজি হয়েছি, তবে তা দ্রুত একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার শর্তসাপেক্ষ।’ ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইসরায়েলও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল ফের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে অংশ নিচ্ছে, যা যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। পোস্টের শেষে তিনি বলেন, ‘সবাই কাজে লেগে পড়ুন এবং দ্রুত কাজটি শেষ করুন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা

এর আগে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানকে ‘চরম আঘাত’ হানার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করে যে, উইকেন্ডেই ট্রাম্প ইরানে নতুন করে ভারী হামলার পরিকল্পনা করছেন। মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে এক ক্যাবিনেট বৈঠক চলাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ওদের খুব শক্তভাবে আঘাত করব। একটা সময়ে তারা বলতে বাধ্য হবে যে, “আমরা আর এটি সহ্য করতে পারছি না”।’

পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প নতুন এক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই শনিবার বা আজ রোববার নাগাদ শুরু হতে পারে। আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিভিন্ন জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছিল।

সিবিএস বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্প তখন পর্যন্ত এই অভিযানের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত না দিলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধের প্রথম ধাপের পর এবারই প্রথম ইসরায়েল সরাসরি ইরানের ওপর যৌথ আক্রমণে যুক্ত হতো।

গত মাসে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের অভিযোগে ওয়াশিংটন ফের ইরানের ওপর হামলা জোরদার করে। জবাবে তেজোরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এর আগে জুন মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করলেও তা ব্যর্থ হয়। সেই চুক্তিতে লেবাননসহ সব স্থানে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল এবং ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা ছিল।

তবে গত ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে। পরে তেহরানও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ অভিযোগ এনে সমঝোতা স্মারকটি স্থগিত করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত