Ajker Patrika

খরার প্রকোপ: একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করছে হাঙ্গেরি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০৪
খরার প্রকোপ: একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করছে হাঙ্গেরি
হাঙ্গেরির কেন্দ্রে অবস্থিত প্যাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রোববার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ছবি: এএনএসএ

৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুল্লিগুলো শীতল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরির কেন্দ্রে অবস্থিত প্যাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রোববার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৪৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি হাঙ্গেরির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করে।

ম্যাজিয়ার আরও জানান, গত শুক্রবার কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে ৯৬৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। রাতে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২৪০ মেগাওয়াটে, যা স্বাভাবিক ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম।

বুদাপেস্টের দক্ষিণে অবস্থিত সোভিয়েত আমলে নির্মিত চারটি চুল্লিবিশিষ্ট এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দানিউব নদী থেকে পানি নিয়ে চুল্লিগুলো শীতল রাখে। তবে নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় কেন্দ্রটির পাম্পগুলো পর্যাপ্ত পানি তুলতে পারছে না।

প্যাকস এলাকায় নদীর পানির স্তর ঋণাত্মক ১৩৪ সেন্টিমিটারে নেমে এলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পানির স্তর আরও কমে ঋণাত্মক ১৪৪ সেন্টিমিটারে নামতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালে ঋণাত্মক ৯৮ সেন্টিমিটার ছিল সর্বনিম্ন রেকর্ড।

জার্মানি থেকে কৃষ্ণসাগরের দিকে প্রবাহিত দানিয়ুব নদী ইউরোপের অন্যান্য নদীগুলোর মতোই মাসের পর মাস ধরে তীব্র দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির সংকটের কারণে হাঙ্গেরি সরকার ইতিমধ্যেই ১০০ টিরও বেশি শহর ও গ্রামে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কারখানা বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করে, তাদেরও স্বেচ্ছায় ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই অভূতপূর্ব বিরূপ প্রভাব দেশটির নৌপরিবহন, পর্যটন, কৃষি ও শিল্প খাতকে তীব্রভাবে বিপর্যস্ত করেছে। এমনিতেই কয়েক বছর ধরে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে হাঙ্গেরি।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো জানিয়েছেন, তাঁর দেশ জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং তারা হাঙ্গেরিকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

গত মে মাস থেকে একের পর এক দাবদাহ বা ‘হিটওয়েভ’ সামলে আসছে ইউরোপ। এর মধ্যে জুন মাসে মহাদেশটিতে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র দাবদাহ দেখা গেছে।

‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার পেছনে মূলত মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই দায়ী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত