Ajker Patrika

নিউসমের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ রিপ্পির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২৩
নিউসমের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ রিপ্পির
রুবি রিপ্পি ও গ্যাভিন নিউসম। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গ্যাভিন নিউসমের সঙ্গে দুই দশকের বেশি সময় আগে থাকা সম্পর্ক নিয়ে প্রথমবারের মতো নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন তাঁর সাবেক সহযোগী রুবি রিপ্পি। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এ প্রকাশিত এক নতুন নিবন্ধে তিনি সম্পর্কটির নানা দিক তুলে ধরেছেন, যা ২০০৭ সালে নিউসমের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক বলেও মনে হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, সে সময় নিউসম ছিলেন সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র। তাঁর কার্যালয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন রিপ্পি। একই সময়ে তিনি ছিলেন মেয়রের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং পরে নিউসমের পুনর্নির্বাচন প্রচারণার ব্যবস্থাপক অ্যালেক্স টুর্কের স্ত্রী।

‘হাউ আই ব্লু আপ—দেন রিবিল্ট—মাই লাইফ’ শিরোনামের নিবন্ধে রিপ্পি নিউসমের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাঁকে ‘আমার সাবেক বস’ ও ‘মেয়র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউসমের রাজনৈতিক উত্থানের দীর্ঘযাত্রায় এই ঘটনা হয়তো একটি ছোট্ট অধ্যায় মাত্র; কিন্তু তাঁর নিজের জীবনে এটি এমন এক ভাঙন, যা জীবনকে ‘আগে’ ও ‘পরে’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।

২০০৭ সালে এই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন নিউসম। সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সম্পর্কে যা শোনা ও পড়া হয়েছে, তা সত্য। তবে নিজের নতুন স্মৃতিকথায় নিউসম তাঁদের সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এক সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে রিপ্পির নতুন বক্তব্য সেই বিবরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নিউসম তাঁর বইয়ে লিখেছেন, তিনি রিপ্পির স্বামী অ্যালেক্স টুর্কের কাছে নিজের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে রিপ্পির দাবি, এই বর্ণনা এমন একটি ধারণা তৈরি করে যে, নিউসমই প্রথম সত্যটি তাঁর স্বামীকে জানিয়েছিলেন। অথচ রিপ্পির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে নিউসমের আগেই তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

নিবন্ধে রিপ্পি তাঁর জীবনের সেই সময়ের নানা সংকটের কথাও লিখেছেন। তিনি জানান, তখন তিনি বিবাহিত, সন্তানসম্ভবা এবং অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নিউসমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন এবং মেয়রের কার্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহের মুখে পড়েন রিপ্পি। তৎকালীন ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল কমলা হ্যারিস তখন সান ফ্রান্সিসকোর জেলা অ্যাটর্নি ছিলেন। রিপ্পির দাবি, সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন কি না, তা নিয়ে হ্যারিসের পরামর্শ চান। হ্যারিস তাঁকে কিছু সময় অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

পরে রিপ্পি ও তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘ সময় তিনি নিউসমের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। তবে ‘হ্যাশট্যাগ মি-টু’ আন্দোলনের সময় সম্পর্কটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তিনি নিজেকে ‘ক্ষমতাহীন অধস্তন’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রিপ্পি লিখেছেন, নিজের কর্মকাণ্ডের দায় তিনি স্বীকার করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এখন মনে করেন, একজন অধস্তন কর্মী ও তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার প্রভাবও অস্বীকার করা যায় না। তিনি বলেন, ‘দুটিই সত্য—আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দায়ী, কিন্তু ক্ষমতা কখনো সবার মধ্যে পরিণতি সমানভাবে বণ্টন করে না।’

রিপ্পি জানিয়েছেন, তিনি এখন ২০ বছর ধরে মদ্যপান থেকে দূরে আছেন। আবারও বিয়ে করেছেন এবং সাবেক স্বামীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়েছে। নিউসমের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই নতুন বক্তব্য পুরোনো কেলেঙ্কারিকে আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত