Ajker Patrika

যোগযোগ বিচ্ছিন্ন ইরান থেকে যেসব খবর আসছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একটি ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে অন্তত সাতটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ছবি: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একটি ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে অন্তত সাতটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ছবি: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ইরানের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।

নরওয়েভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতের বিক্ষোভের পর এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একটি ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে অন্তত সাতটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, বর্ণনাকারীর দাবি—তেহরানের পশ্চিমে কারাজের কাছে ফারদিস এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এসব মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে নিহতদের পরিচয় নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টাও করছে কর্তৃপক্ষ। লোরেস্তান প্রদেশের কুহদাশ্ত শহরে ২২ বছর বয়সী আমির-হেসাম খোদাইয়ারিকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে আহত করে, পরে তিনি মারা যান। বিপ্লবী গার্ড তাঁকে সরকারপন্থী বাসিজ সদস্য দাবি করলেও তাঁর পরিবার ও স্থানীয়রা তা অস্বীকার করেন। তাঁর জানাজায় নিরাপত্তা বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে সাধারণ জনতা।

একই প্রদেশের আজনা শহরে নিহত ২৮ বছর বয়সী শায়ান আসাদোল্লাহির ক্ষেত্রেও মরদেহ কয়েক দিন আটকে রেখে পরিবারকে সরকারি বক্তব্য মানতে চাপ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে নীরবে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন একজন হেয়ারড্রেসার এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত যে গল্পগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো হয়তো পুরো চিত্রের সামান্য অংশ। পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সংযোগ ফিরলে আরও অনেক অজানা মৃত্যুর কাহিনি প্রকাশ পেতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অস্থিরতার কাছে তিনি পিছু হটবেন না। এরপর সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবালয় জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগ ‘নাশকতাকারীদের’ প্রতি কোনো রকম ছাড় দেবে না। পুলিশ ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও চলমান বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘যৌথ ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এসব বক্তব্যে আরও সহিংস দমন-পীড়নের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত