Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য কমছে, তবে বাধা এখনো রয়ে গেছে: ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য কমছে, তবে বাধা এখনো রয়ে গেছে: ইরান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর সফরের পর তেহরানের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এসেছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির জন্য ১৪ দফার একটি কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কয়েকটি শর্তে কাছাকাছি অবস্থানে এলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

আজ শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা ১৪ দফার একটি কাঠামোগত চুক্তি তৈরি করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শর্তে কাছাকাছি অবস্থানে এলেও এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে গেছে।’

বাঘাই আশা প্রকাশ করেন, এই ১৪ দফার রূপরেখাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ইরান সফরের পর তেহরানের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এল। তিনি শুরু থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরে ৮ এপ্রিল একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনাও হয়। কিন্তু তা কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়। এর পর থেকে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব বিনিময় করে আসছে।

বাঘাই বলেন, আলোচনায় থাকা কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান এবং মার্কিন নৌ অবরোধের সমাপ্তি। উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

বাঘাই আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাও খসড়া কাঠামোর অংশ। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরান দাবি করছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটি সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে এবং প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হচ্ছে।

বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ব্যবস্থা নির্ধারণ হওয়া উচিত।’ তবে আলোচ্য কাঠামোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানান তিনি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এটি অন্যতম বড় বিরোধপূর্ণ ইস্যু।

বাঘাই বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা হবে। একইভাবে ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি খসড়ায় উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত