Ajker Patrika

হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ইরান, শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৮: ১৬
হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ইরান, শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সমর্থনে একটি মিছিলে হিযবুল্লাহর পতাকা হাতে এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরান বলছে, লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার যেকোনো বৃহত্তর শান্তিচুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টিও আলোচনার সঙ্গে যুক্ত।

গতকাল বৃহস্পতিবার লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়েদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধের সমাপ্তি ছাড়া এই সংঘাতের অবসান হবে না। এর পাশাপাশি লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারও নিশ্চিত করতে হবে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তবে হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর অভিযোগ, আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি নেই।

এদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে তারা অভিযান বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ীও হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজকে তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক যুদ্ধে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে। তারা আমাদের মিত্র এবং আমরা তাদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল।’

তিনি বৈরুতে নতুন করে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননের বিষয়টি যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবানন ইস্যুতে অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘লেবানন শান্তির সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। এই সংঘাত অনেক দিন ধরে চলছে।’

তবে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত একাধিক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজা, উত্তর ইসরায়েল, লেবানন এবং কুয়েতে চলতি সপ্তাহেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা কয়েকটি দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তেহরান চুক্তির অংশ হিসেবে তেল বিক্রির আয় ব্যবহারের সুযোগ, রপ্তানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, বন্দরের অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত