Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১৭: ৫৮
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪
কারাকাসের অভিজাত আলতামিরা এলাকায় একটি ২২ তলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ছবি: এএফপি

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভয়াবহ কম্পনে রাজধানী কারাকাসের কাছে একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়ে অন্তত ১৬৪ জন নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্টগুলোর নিচে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উদ্ধারকাজে হাত বাড়িয়েছে।

ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প বলা হয়। প্রথম কম্পনটি ছিল ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় শহর মোরন থেকে ২১ কিলোমিটার পশ্চিমে, ভূগর্ভের ২২ কিলোমিটার গভীরে।

এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর ৪৫ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার মূল প্রধান কম্পনটি আঘাত হানে। ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরের (৭ দশমিক ৭ মাত্রা) পর এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭০ জনের বেশি মানুষ। রাজধানী কারাকাসের ঠিক উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারের বিদ্যুৎ-সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বাসিন্দারা আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন রাস্তায়। কারাকাসের অভিজাত আলতামিরা এলাকায় একটি ২২ তলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে স্বজনদের জন্য অপেক্ষারত এক নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘ভেতরে মানুষ এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু তাদের বাঁচানোর মতো পর্যাপ্ত লোকবল এখানে নেই।’

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, কোনো ধরনের বিস্ফোরণ এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কারাকাসের নিকটবর্তী মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার এই জোড়া ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও অনুভূত হয়েছে। সেখানে ভূকম্পন সতর্কবার্তা বাজলে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কলম্বিয়ার জাতীয় সিসমোলজিক্যাল নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফ্রেডি তোভার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে তাঁরা ২০০টির বেশি আফটার শক বা অনুকম্পনের রিপোর্ট পেয়েছেন এবং এর স্থায়িত্ব আরও কিছু সময় পর্যন্ত থাকতে পারে।

ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ সংকটে জরুরি মানবিক ও উদ্ধার সহায়তার হাত বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন অবিলম্বে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে।

ফ্রান্স ৮৫ জন এবং স্পেন তাদের সামরিক বাহিনীর ৫৪ জন অভিজ্ঞ অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া চীন, ভারত ও ব্রাজিলও ভেনেজুয়েলাকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলায় এর আগে ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে এক প্রলয়ংকরী ভূকম্পনে ২৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এবারের জোড়া আঘাত অবকাঠামোগত দিক থেকে দেশটির জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত