
লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার জাওয়িয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শোধনাগারটির চারপাশে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাতের শুরু হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়।
ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া শোধনাগার। দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের। এটি দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনকারী শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।
ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) এবং জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি জানিয়েছে, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কার্যক্রম স্থগিত করে তেল কমপ্লেক্স ও বন্দর এলাকা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে এনওসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘শুক্রবার ভোরে তেল কমপ্লেক্সের চারপাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সেখানে বিপৎসংকেত (অ্যালার্ম সাইরেন) বাজানো হয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংঘর্ষ চলাকালে তেল কমপ্লেক্সের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ভারী অস্ত্রের গোলা এসে পড়ে।’ তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এতে বলা হয়, ‘সংঘর্ষ তীব্র হয়ে শোধনাগার সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাটি এখন ভারী গোলাবর্ষণের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।’
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাওয়িয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে একটি ‘বড় ধরনের অভিযান’ শুরু করেছে। এ সময় সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
জাওয়িয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘চিহ্নিত অপরাধীদের গোপন আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অপরাধী হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের মতো ‘গুরুতর অপরাধের’ সঙ্গে জড়িত।
আল-জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, শোধনাগারের ভেতর বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলছে এবং বেশ কিছু গাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোধনাগারের ভেতরে গোলা পড়ার পর সেখানে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়।
জাওয়িয়া রিফাইনিং কোম্পানি সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় লিবীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছে তারা।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় সহিংসতা লেগেই আছে। বর্তমানে দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত। ত্রিপোলিকেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী সরকার (জিএনইউ) পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বিবাহ। অন্যদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছেন সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন সরকার, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।
ঠিক কী কারণে এই লড়াই শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান শুরু হওয়ার পরই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ইরানের প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপের অদূরে পারস্য উপসাগরে একটি বিশাল তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস সেন্টিনেল উপগ্রহের পাঠানো সাম্প্রতিক ছবিতে এই চিত্র ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে থাকা...
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি যৌথ বহুজাতিক অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৪ ঘণ্টা আগে
অবশেষে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছেন তামিলগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পর আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।
৫ ঘণ্টা আগে
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম মস্কোর বিজয় দিবসের প্যারেডে কোনো সাঁজোয়া যান, ভারী ট্যাংক কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আয়োজন সীমিত করা হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে