Ajker Patrika

ইসরায়েলের কথায় সৌদি আরবসহ ৩১ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৩৫
ইসরায়েলের কথায় সৌদি আরবসহ ৩১ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স
ফাইল ছবি

সৌদি আরবসহ ৩১টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকদের ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটে ক্রু হিসেবে নিয়োগ সীমিত করছে এয়ার ফ্রান্স। ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধ মেনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতির কারণে ফরাসি বিমান সংস্থাটি বৈষম্যের অভিযোগে মামলার মুখে পড়তে পারে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী প্রকাশনা মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি আর নেই।

এয়ার ফ্রান্স আল জাজিরাকে এক বিবৃতিতে বলেছে, এয়ার ফ্রান্স অন্য সব বিমান সংস্থার মতো যেসব দেশে সেবা দেয়, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশবিধি গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে মেনে চলতে বাধ্য।

ইসরায়েলের এন১২ সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ১ অক্টোবর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে জানায়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজ ছিনতাই করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে। ওই পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজটির ভারতীয় পাইলটকে হামলার অভিযোগ রয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স বলেছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইটের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের চালু করা নতুন বিধিবিধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের এই নির্দেশনায় দেশটিতে যাতায়াতকারী বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী কয়েক ডজন বিমান সংস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৫টি বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আল জাজিরা জানতে চেয়েছিল, তারা নির্দেশনাটি পেয়েছে কি না এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগে পরিবর্তন এনেছে কি না।

চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংস জানিয়েছে, তারা নতুন নির্দেশনা পেয়েছে। বর্তমানে তাদের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েনি, তবে বিধিনিষেধ মেনে চলবে তারা।

স্মার্টউইংসের মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনাটি পেয়েছি। আমরা এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা প্রযোজ্য সব শর্ত পর্যবেক্ষণ ও মেনে চলছি। বর্তমানে এই নির্দেশনা আমাদের কার্যক্রম, ক্রু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা ইসরায়েল থেকে ও ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ক্রু মোতায়েনে কোনো প্রভাব ফেলেনি।’

মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস শুধু বলেছে, এ বিষয়ে তাদের জানানোর কিছু নেই।

মিডিয়াপার্টের দেখা এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে সতর্ক করা হয়, এই নির্দেশনা না মানলে এয়ার ফ্রান্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মী সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়বেন।

এদিকে প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গানদিন বলেন, এ বিধিনিষেধ ফরাসি শ্রম আইনের সঙ্গে এয়ার ফ্রান্সের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, বিদেশি সরকারের নিরাপত্তা শর্ত মানতে গিয়ে কর্মীদের প্রতি আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

ক্লারা গানদিন আল জাজিরাকে বলেন, এই পদক্ষেপ একটি সামষ্টিক অনুমানের ওপর দাঁড়ানো, যা বৈষম্যমূলক পক্ষপাতের শামিল। এই ৩১ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে, যাদের বেশির ভাগ আরব বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের, সম্ভাব্য নিরাপত্তাহুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এয়ার ফ্রান্সের এ নির্দেশনা গ্রহণকে সরাসরি ‘বৈষম্যমূলক হয়রানি’ বলে মন্তব্য করেন ক্লারা গানদিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত