Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা ‘ভালোভাবে শুরু’, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অনড় ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা ‘ভালোভাবে শুরু’, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অনড় ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরানের ‘অপরিহার্য অধিকার’ এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তবে, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না। আরাগচির ভাষায়, এই ইস্যু ‘আলোচনায়ই আনা যাবে না।’

পারসি ভাষায় আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ আরাগচি নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা ছিল ‘একটি ভালো শুরু।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘ (পরমাণু) সমৃদ্ধকরণ আমাদের অপরিহার্য অধিকার এবং এটি চলতেই থাকবে। এমনকি বোমা হামলা করেও তারা আমাদের সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আমরা একটি আশ্বস্তকারী চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত।’ পরে এই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ আরবি ডাবিংসহ আল জাজিরা প্রকাশ করে। আরাগচির ভাষায়, ‘ইরানের পারমাণবিক ইস্যু কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।’

শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া আরেক বক্তব্যে আরাগচি জানান, শুক্রবারের আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ‘কর্মসূচি কখনোই আলোচ্য বিষয় ছিল না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, মাসকাটে অনুষ্ঠিত আলোচনা যদিও পরোক্ষ ছিল, তবু ‘মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করমর্দনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’ তাঁর মতে, আলোচনা ছিল ‘একটি ভালো শুরু’, তবে আস্থা গড়ে তুলতে ‘এখনো অনেক পথ বাকি।’

তবে ইরানের রাজধানী তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ কম দেখা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার মনে হয় আগের মতোই এই আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হবে। কারণ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় এবং কেউই ছাড় দিতে রাজি নয়।’

কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তির আশা করছেন, তবে আশাবাদী নন। কাতারের রাজধানী দোহায় আল জাজিরা ফোরাম থেকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান খুব শক্ত। ইসরায়েলের প্ররোচনাও আছে। তারা মনে করছে, ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাই বিশেষ করে গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ইরানের কাছ থেকে সহজেই ছাড় আদায় করা যাবে।’

ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার আরব সাগরে অবস্থানরত একটি বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ওই বিমানবাহী রণতরী ও স্ট্রাইক গ্রুপ ‘আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তির মাধ্যমে শান্তির বার্তা বাস্তবায়ন করছে।’

উইটকফ আরও বলেন, মঙ্গলবার একটি ইরানি ড্রোন ‘অস্পষ্ট উদ্দেশ্য’ নিয়ে ওই রণতরীর কাছে আসলে যে পাইলট সেটি ভূপাতিত করেন, তার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। উইটকফ বলেন, ‘আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা, প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করা এবং প্রতিদিন দায়িত্বে থেকে বিশ্বকে আমেরিকার প্রস্তুতি ও দৃঢ়তার চিত্র দেখানো নারী-পুরুষদের পাশে দাঁড়িয়ে আমি গর্বিত।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েনকে ব্যবহার করতে চাইলেও আল-শায়জি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বেশি দিন তার বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখতে পারবেন না। এতে ইরান প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার ইরান আলোচনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে তার দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর বিশ্বাস, যেকোনো আলোচনায় অবশ্যই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি থাকতে হবে।

এর আগে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। আব্বাস আরাগচি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন যেন ‘হুমকি ও চাপ’ থেকে বিরত থাকে, যাতে ‘আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত