Ajker Patrika

ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা শিখে পরিবারকেও বাঁচাল ১২ বছরের শিশু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা শিখে পরিবারকেও বাঁচাল ১২ বছরের শিশু
ভাই-বোনদের সঙ্গে আনাতোলি। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র সাত মাইল দূরেই ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলে অবস্থিত একটি গ্রাম। এই গ্রামেরই ছেলে ১২ বছর বয়সী আনাতোলি প্রোখোরেঙ্কো। এই বয়সে সাধারণ শিশুরা যেখানে খেলাধুলা, অ্যাপ আর হোমওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আনাতোলি সেখানে শিখে ফেলেছে কীভাবে একটি আক্রমণরত ড্রোনকে নিষ্ক্রিয় করতে হয়। আর সেই জ্ঞানই একদিন বাঁচিয়ে দিল তার ছোট ভাইবোন ও আরও কয়েক শিশুকে।

সেদিন সন্ধ্যায় আনাতোলি প্রতিবেশীর বাড়ির পেয়ারা গাছে উঠে ডাল ছাঁটাই করছিল। এমন সময়ই হঠাৎ ড্রোনের আওয়াজ শুনতে পায় সে। তাদের গ্রামে এই শব্দ এখন প্রতিদিনই শোনা যায়। গত মার্চ মাসেও একটি ড্রোন স্থানীয় একটি দোকানের পাশে একটি গাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছিল। মাত্র একদিন আগেও গ্রামের রাস্তায় আরেকটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। আর এবারের ড্রোনটি সরাসরি আনাতোলির বাড়ির দিকেই আসছিল।

কালো রঙের কোয়াডকপ্টারটি মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে আসছিল। নিচে খেলছিল আনাতোলির তিন ছোট ভাইবোনসহ আরও কয়েক শিশু। ড্রোনটি শিশুদের দেখতে পেয়ে কিছুটা ওপরে উঠে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

রুদ্ধশ্বাস এই পরিস্থিতির মধ্যেই আনাতোলির মনে পড়ে গেল কয়েক মাস আগের এক কথোপকথন। বাবার সঙ্গে বন থেকে কাঠ কাটতে গিয়ে সে দেখেছিল পাতলা, চকচকে সুতোর মতো কিছু নিয়ে কাজ করছেন ইউক্রেনের এক সৈনিক। ‘ডায়নামো’ নামে চিহ্নিত সেই সৈনিকই আনাতোলিকে বলেছিলেন, এটি ফাইবার-অপটিক তার। খালি হাতে ছিঁড়তে গেলে সহজে ছেঁড়া যায় না, সময় লাগে। তিনি আনাতোলিকে এই ধরনের তার ছেঁড়ার জন্য তিনটি কৌশল দেখিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন, ড্রোন চলে যাওয়ার পর মনে মনে ১৫ পর্যন্ত গুনতে। যাতে ওই ড্রোনের অপারেটর তাকে দেখতে না পায়।

তাই বাড়ির সামনে ড্রোনের দেখা পেয়ে গাছ থেকে লাফিয়ে নেমে আনাতোলি দৌড়ে গেল। শুধু তা-ই নয়, ড্রোনটির পেছনে থাকা সেই চুলের মতো সরু ফাইবার-অপটিক লাইনটি ধরে ফেলল এবং ‘ডায়নামো’ কথামতো লুপ তৈরি করল। পরে সময় বেশি ছিল না বলে ১৫-এর বদলে ১০ পর্যন্ত গুনেই জোরে টান দিল এবং তারটি ছিঁড়ে গেল। এ অবস্থায় ড্রোনটি হঠাৎ ওপরে উঠে গিয়ে কাছাকাছি জলাভূমিতে গিয়ে আছড়ে পড়ল।

ডায়নামো পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘সৈনিকেরাও এত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না। একজন সাধারণ শিশু কীভাবে পারল?’

এই সাহসিকতার জন্য আনাতোলি আজ পুরো ইউক্রেনে একজন বীর হিসেবে প্রশংসিত। তবে মুদ্রার ওপিঠও রয়েছে; রাশিয়ার বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে তাকে লক্ষ্য করে অনলাইন হুমকি দেওয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে তার সাত সদস্যের পরিবার নিজেদের গ্রাম ছেড়ে চেরনিহিভ শহরের একটি ছোট দুই রুমের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নিয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই এক চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে ফাইবার-অপটিক ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার যে নজির আনাতোলি দেখিয়েছে, তা যুদ্ধের এক নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিন ছাড়ানোর নামে ২১টি যৌন নিপীড়ন, লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১৫ আমল

‘সনাতন ধর্ম নির্মূল করতে হবে’, তামিলনাড়ু বিধানসভায় এমএলএর মন্তব্যে বিতর্ক

স্ত্রীর পরকীয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় শেষে মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত