Ajker Patrika

‘নাকবা’ থেকে আজও মুক্তি মেলেনি ফিলিস্তিনিদের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ২১: ১৪
‘নাকবা’ থেকে আজও মুক্তি মেলেনি ফিলিস্তিনিদের
অধিকৃত পশ্চিমতীরে একটি বিক্ষোভে চাবির প্রতিরূপ ধরে আছে ফিলিস্তিনি বালিকা, এটি ১৯৪৮ সালের নাকবায় ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি হারানোর প্রতীক। ছবি: এএফপি

আজ শুক্রবার (১৫ মে) ঐতিহাসিক ‘নাকবা দিবস’ পালন করেছে ফিলিস্তিনিরা। ‘নাকবা’ হলো ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় নিজেদের ভূমি থেকে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোর করে উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য নাকবা আসলে ইতিহাসের একটি দিন নয়, বরং এটি এখনো চলমান এক মানবিক সংকট। নাকবা সংঘটিত হওয়ার প্রায় আট দশক পরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতি, দখল ও সহিংসতার শিকার হয়ে চলেছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীরে দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের হামলা সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।

এবারের নাকবা দিবস শুধু ফিলিস্তিনিরাই নয়, জাতিসংঘও দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করছে। সংস্থাটি তাদের এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের ‘দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের’ কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে, নাকবা অতীতের কোনো একক ঘটনা নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান দখল ও উচ্ছেদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বাড়ছে। সেখানে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণকে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জেনিন এলাকার এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের স্বজনের সদ্য দাফন করা মরদেহ কবর থেকে তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাছাকাছি একটি ইসরায়েলি আউটপোস্টের বাসিন্দারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা ১৯৪৮ সালের নাকবার সময়কার পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি। তখনো ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে সরিয়ে দিয়ে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমানে ইসরায়েলের কিছু মন্ত্রী প্রকাশ্যে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের কথা বলছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রধান সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কেও চাপে রাখা হচ্ছে। ইসরায়েল সংস্থাটির কার্যক্রম সীমিত করেছে এবং পূর্ব জেরুজালেমে এর স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তবে সমালোচনা রয়েছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব নিয়েও। দুর্নীতি, বিভক্তি ও কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিছু দেশ মানবিক সহায়তা পাঠালেও পর্যবেক্ষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দখল ও সহিংসতা বন্ধে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিন ছাড়ানোর নামে ২১টি যৌন নিপীড়ন, লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১৫ আমল

‘সনাতন ধর্ম নির্মূল করতে হবে’, তামিলনাড়ু বিধানসভায় এমএলএর মন্তব্যে বিতর্ক

ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় শেষে মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত