Ajker Patrika

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক অভিযোগ করেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের এই ‘আইকনিক’ ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি মাসের ১৫ মে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালে বেকার যুবকদের ‘সমাজের পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১৬ মে অভিজিৎ দিপক সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ব্যঙ্গ করে তেলাপোকা জনতা পার্টি বা সিজেপি গড়ে তোলেন।

যদিও পরে প্রধান বিচারপতি তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং তিনি মূলত ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রি’ নিয়ে আইনি পেশায় আসা প্রতারকদের উদ্দেশ করে ওই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে তেলাপোকা জনতা পার্টির অফিশিয়াল পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ২২ মিলিয়ন (২ কোটি ২০ লাখ) ছাড়িয়ে যায়। ভারতের রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৯ দশমিক ২ মিলিয়ন (৯২ লাখ) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ১৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন (১ কোটি ৩৪ লাখ)। অনুসারীর দিক থেকে তেলাপোকা জনতা পার্টি মূলধারার এই দুই দলকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন তেলাপোকাকে এত ভয় মোদি সরকারের

অভিজিৎ দিপক জানিয়েছেন, ওয়েবসাইট বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং সিজেপির মূল ও ব্যাকআপ ইনস্টাগ্রাম পেজগুলো হ্যাক করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের অজুহাতে তাদের এক্স অ্যাকাউন্টটিও ভারতে ব্লক করে রাখা হয়েছে।

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে দিপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের আইকনিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে ১০ লাখ “তেলাপোকা” (তরুণ) আমাদের ওয়েবসাইটের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারির দায়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ৬ লাখ মেম্বার আমাদের পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিল। সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন—কেন তেলাপোকাকে এত ভয় আপনাদের?’

দিপক আরও বলেন, ‘এই স্বৈরাচারী আচরণ মূলত ভারতের তরুণদের চোখ খুলে দিচ্ছে। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা জবাবদিহি চেয়েছিলাম, এটাই আমাদের অপরাধ। কিন্তু এত সহজে আমাদের হাত থেকে মুক্তি পাবেন না। আমরা নতুন ওয়েবসাইটের জন্য কাজ করছি। তেলাপোকারা কখনো মরে না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও আম আদমি পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

কয়েক দিন ধরে সরকারি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় (এনইইটি বা নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। তেলাপোকা জনতা পার্টি মূলত সেই ক্ষোভের ওপর ভর করে তরুণদের ‘ডিজিটাল প্রতিবাদের’ অন্যতম প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মহুয়া মৈত্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের প্রবীণ সংসদ সদস্য শশী থারুর প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন।

তবে সিজেপির এই তুমুল জনপ্রিয়তার মধ্যে এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের কয়েকজন সাবেক আমলা ও বুদ্ধিজীবী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দিল্লির ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া উইংয়ের একজন সক্রিয় ভলান্টিয়ার ও স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি আপ-এর শীর্ষ নেতা মণীশ সিসোদিয়াও একটি ইনস্টাগ্রাম রিল শেয়ার করে তেলাপোকা জনতা পার্টিকে সমর্থন দিয়েছেন।

এই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড সামনে আসার পর ভারতের সাবেক সিভিল সার্ভেন্ট আশিস জোশীসহ অনেকেই সিজেপিকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত নাগরিক আন্দোলন না বলে, আম আদমি পার্টির একটি ‘গোপন রাজনৈতিক প্রজেক্ট’ বলে দল থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যদিও দিপক দাবি করেছেন, তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় গোপন কিছু নয় এবং বর্তমান সিজেপি আন্দোলনের সঙ্গে আম আদমি পার্টির কোনো সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ভারতের বেকার ও তরুণদের অধিকার আদায়ের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত