Ajker Patrika

ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানের মিনাব শহরে হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: বিবিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বজুড়ে শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা একটি খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ আত্মরক্ষা ছাড়া কিংবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ‘no quarter’ বা শত্রুকে কোনো দয়া না দেখানোর মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে আত্মসমর্পণকারী বা আহত শত্রুকেও হত্যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জনাথন ট্র্যাসি, হ্যারল্ড হংজু কোহ এবং ওনা অ্যা হ্যাতওয়ের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করার জন্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

এদিকে যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২৪৪ জন শিশু। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৫ জন। অন্যদিকে ইরান ও লেবানন থেকে ইসরায়েলে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৯ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতেও অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্ল্যাচার বিবিসিকে বলেন, ‘কোনো এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনকে যেন পাশ কাটানো হয়েছে।’ তিনি এই যুদ্ধকে ‘বেপরোয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আইনের প্রয়োগই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের চিঠিতে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় সেখানে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন হয়, যার মধ্যে ১১০ জনই শিশু। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী—পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে পাশের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে স্কুলটি আক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং যদি প্রমাণিত হয় যে এটি অবহেলার ফল, তাহলে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এই খোলা চিঠিটি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল-এর অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অফিস সকাল ৯টা থেকে ৪টা, সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ মার্কেট

বাংলাদেশ সীমান্তে নদী-খালে সাপ-কুমির নামাবে বিএসএফ

অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আটক, ট্রাক জব্দ

বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি, নেপথ্যে গাইড-হাসপাতাল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত