
ইরানকে দেওয়া আলটিমেটাম থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি এখন কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছেন এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।
আরব কর্মকর্তাদের মতে, গত বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ইরান যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা। তবে আলোচনার প্রধান সমস্যা ছিল—ইরানের পক্ষে কে কথা বলবে। কারণ, এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। তাঁকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার যোগ্য অংশীদার মনে করা হতো।
মিসরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে একটি যোগাযোগমাধ্যম খুলতে সক্ষম হন। তাঁরা শত্রুতা বন্ধের জন্য একটি পাঁচ দিনের ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং’ বা আস্থা প্রস্তাব দেন। রিয়াদের এই প্রচেষ্টা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আনে।
গত শনিবার রাতে মার-এ-লাগো থেকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। কিন্তু রিয়াদ থেকে আলোচনার খবর হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর পর গত সোমবার সকালে ট্রাম্প তাঁর সুর নরম করেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ব পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। ডাও জোনস ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক গত ফেব্রুয়ারির পর এক দিনে সর্বোচ্চ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
তবে মধ্যস্থতাকারী আরব দেশগুলো এখনো সন্দিহান। তাদের মতে, দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। ইরান শর্ত দিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না করার গ্যারান্টি দিতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম স্থগিত করার দাবিতে অটল।
যুক্তরাষ্ট্র ও আরব কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তান বা তুরস্কে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক হতে পারে। ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এমন কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলছি, যারা বেশ যুক্তিবাদী ও দৃঢ়। হয়তো তাদের মধ্যেই আমরা যাকে খুঁজছি, তাকে পেয়ে যাব।’
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই বৈঠকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন। এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও যোগ দিতে পারেন। ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফকে নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, কালিবাফই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি চুক্তিতে রাজি করাতে পারেন।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি। আরব দেশগুলো একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিলেও আইআরজিসি দাবি করেছে, সুয়েজ খালের মতো ইরানও এখান থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করবে। সৌদি আরব এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক আধিপত্য মেনে নেবে না।
হরমুজ প্রণালি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—সোমবার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কৌতুক করে বলেন, ‘হয়তো আমার এবং পরবর্তী আয়াতুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।’
বর্তমানে ওয়াশিংটনকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন এক কট্টরপন্থী শাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে হচ্ছে, যার পরিবারের অনেক সদস্য সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন। ফলে এই কূটনৈতিক মিশন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা পাওয়ার বিষয়টি অবশেষে নিশ্চিত করেছে তেহরান। তবে এই পরিকল্পনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে দেশটির একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র। আজ বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে সূত্রটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২৪ মিনিট আগে
তুরস্ক ও ব্রিটেনের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল প্রশিক্ষণ ও সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ১০.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) নতুন চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে ২০টি ইউরোফাইটার টাইফুন...
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে নিরস্ত বা দুর্বল না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন ধারণা এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, বিশেষ করে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা এই মুহূর্তে ‘যৌক্তিক’ নয়। আজ বুধবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে