Ajker Patrika

সি-মোদি বৈঠকের পরও সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ১৬
সি-মোদি বৈঠকের পরও সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের
ব্রিকস সম্মেলনে সাইডলাইনে বৈঠক করেন সি চিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এএফপি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল শনিবারের বৈঠকের পর ভারত ও চীন যে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সম্পর্ক কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশের এই দুই বিবৃতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সাত বছর পর ভারতে সফর করেছেন সি চিন পিং। ওই সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা এবং চীনা সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হন।

চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দিকে এগোতে হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই দুই ক্ষেত্রে ‘সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতি’ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিরক্তির কারণগুলো দূর করতে হবে। দুই পক্ষের উচিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখা, দুই ক্ষেত্রে সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির চেষ্টা করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

তবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি।’ তিনি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দুই দেশেরই মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।

ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যের পার্থক্য মূলত অগ্রগতির ক্রম নিয়ে।

চীনের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সীমান্ত সমস্যা এখনো অমীমাংসিত থাকলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারতের শর্তটি মূলত সীমান্তের বাস্তব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। সীমান্ত অবশ্যই শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে এবং বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো মেনে চলতে হবে।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই পার্থক্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ওই সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্ককে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলে। এরপর থেকেই ভারত বলে আসছে, সীমান্তের পরিস্থিতিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। অন্যদিকে, চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে এমন একটি সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে সীমান্ত সমস্যা এখনো সমাধান না হলেও দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত