
তেল আবিব, ইসলামাবাদ, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গোপন আলোচনা চলছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ধোঁয়াশা। একদিকে ইসরায়েলি মন্ত্রী দাবি করেছেন যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে এই পরিস্থিতি ও আলোচনা পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে ইরান সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো আলোচনাই হয়নি।
ইসরায়েলের অর্থনীতি মন্ত্রী নির বারকাত ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্যে বৈপরীত্য মনে হলেও আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত সুচারুভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বারকাতের মতে, এটি একটি দ্বিমুখী কৌশল। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প একদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানকে ব্যস্ত রাখছেন, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছেন।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত হতে হবে অত্যন্ত কঠোর, যাতে তেহরানের কোনো সামরিক সক্ষমতা অবশিষ্ট না থাকে এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে থাকে।
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত মোকাদ্দাম বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন খবর শুনছি। কিন্তু আমার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ বিপরীত। দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত সরাসরি বা পরোক্ষ—কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হয়নি।’
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘আইআরএনএ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত মোকাদ্দাম জানিয়েছেন সরাসরি আলোচনা না হলেও কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে পরামর্শ বা কনসালটেশন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের পটভূমি তৈরি করতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্র কাজ করছে। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এই দেশগুলোর মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টা চলমান যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আলোচনার দাবি আসলে ইরানের ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান আলোচনা অস্বীকার করে এটিই বোঝাতে চাচ্ছে যে তারা চাপের মুখে নতি স্বীকার করছে না।
ইসরায়েলি মন্ত্রী এটিও পরিষ্কার করে দিতে চেয়েছেন যে, এই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসরায়েল কেবল দর্শক নয়, বরং মার্কিন রণকৌশলের অন্যতম প্রধান অংশীদার। পাকিস্তান বা ওমানের মতো দেশগুলোর পর্দার আড়ালের দৌড়ঝাঁপ শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এশিয়াজুড়ে এক ধরনের ‘করোনা-সদৃশ’ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং এর জেরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার বহু দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
২ মিনিট আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। আজ আবার আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৩৫ মিনিট আগে
ইরানকে দেওয়া আলটিমেটাম থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি এখন কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছেন এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে পাকিস্তান। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের দেওয়া যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্তাবলি ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে হস্তান্তর করেছে ইসলামাবাদ।
১ ঘণ্টা আগে