Ajker Patrika

পরবর্তী পোপ হওয়ার দৌড়ে আছেন যাঁরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৫, ১৬: ১৬
পরবর্তী পোপ হওয়ার দৌড়ে আছেন যাঁরা
পোপ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকাদের মধ্যে যথাক্রমে পিয়েত্রো পারোলিন, লুইস আন্তোনিও টাগলে, পিটার টার্কসন, রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভস্ট, পিটার এরদো, মাত্তেও জুপ্পি, মারিও গ্রেচ, পিয়েরবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লা ও রবার্ট সারাহ অন্যতম। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি কে হবেন, তা আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, অতি গোপনীয় পোপ নির্বাচনে কার্ডিনালদের অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়। এমনকি কেউ কেউ নিজেদের পছন্দের বা অপছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে নানা কৌশলও নেন।

২০১৩ সালের শেষ নির্বাচনে খুব কম লোকেই ভেবেছিলেন যে, জর্জ মারিও বার্গোলিও পোপ নির্বাচিত হবেন। পরে তিনিই হন পোপ ফ্রান্সিস। বর্তমানে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা হলেন—

পিয়েত্রো পারোলিন, ৭০, ইতালি

পিয়েত্রে পারোলিনকে ‘কন্টিন্যুয়িটি ক্যান্ডিডেট’ বা ‘ধারাবাহিকতার প্রার্থী’ হিসেবে দেখা হয়। তিনি পোপ ফ্রান্সিসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট। কূটনৈতিক বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এর মধ্যে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সংবেদনশীল আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত। ধর্মনিরপেক্ষ কূটনীতিকেরা তাঁকে পোপের নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি মনে করেন।

২০১৮ সালে চীন সরকারের সঙ্গে বিশপ নিয়োগ নিয়ে একটি বিতর্কিত চুক্তিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। কেউ কেউ এই চুক্তিকে কমিউনিস্ট সরকারের কাছে ‘বিকিয়ে দেওয়া’ বলে সমালোচনা করেন। পারোলিনের সমালোচকেরা তাঁকে আধুনিক এবং বাস্তববাদী বলে মনে করেন। তাদের মতে, তিনি বিশ্বাসের কঠিন সত্যের চেয়ে আদর্শ ও কূটনৈতিক সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে সাহসী আদর্শবাদী ও শান্তির দৃঢ় প্রবক্তা বলেন।

লুইস আন্তোনিও টাগলে, ৬৭, ফিলিপাইন

ম্যানিলার সাবেক আর্চবিশপ টাগলে নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম এশীয় পোপ। বিগত কয়েক দশক ধরে এশিয়াতেই ক্যাথলিক জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একসময় টাগলেকে ফ্রান্সিসের পছন্দের উত্তরসূরি মনে করা হতো। তিনি পোপের প্রগতিশীল ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তিশালী প্রার্থীও ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর প্রভাব কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। তিনি মনে করেন, সমকামী ও বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া দম্পতিদের প্রতি ক্যাথলিক চার্চের অবস্থান খুব কঠোর। তবে ফিলিপাইনে তিনি গর্ভপাতের অধিকারের বিরোধিতা করেছেন।

পিটার টার্কসন, ৭৬, ঘানা

টার্কসন নির্বাচিত হলে কয়েক শতাব্দীর মধ্যে তিনিই হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পোপ। তিনি জলবায়ু সংকট, দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়ে স্পষ্টভাষী। একই সঙ্গে তিনি পুরোহিত নিয়োগ, বিয়ে (শুধুমাত্র পুরুষ ও নারীর মধ্যে) এবং সমকামিতা নিয়ে চার্চের ঐতিহ্যবাহী অবস্থানের সমর্থক। তবে শেষের বিষয়টি নিয়ে তাঁর মতামত কিছুটা নরম হয়েছে। তিনি মনে করেন, অনেক আফ্রিকান দেশের আইন এ বিষয়ে খুব কঠোর। তিনি দুর্নীতি ও মানবাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন।

রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভস্ট, ৬৯, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব পরাশক্তি অবস্থান এবং ধর্মনিরপেক্ষ বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে ভ্যাটিকান ঐতিহ্যগতভাবে কোনো মার্কিনিকে পোপের জায়গায় দেখার ধারণার বিরোধিতা করে আসছে। তা সত্ত্বেও শিকাগোতে জন্ম নেওয়া মধ্যপন্থী প্রেভস্টকে নজরে রাখা হচ্ছে। ফ্রান্সিস ২০২৩ সালে তাঁকে কার্ডিনাল করেন।

রবার্ট ফ্রান্সিস অগাস্টিনীয় ব্যবস্থার সাবেক প্রধান। ফ্রান্সিস তাঁকে শক্তিশালী বিশপ মনোনয়ন বিভাগের প্রধানও করেছিলেন। এই বিভাগ বিশ্বজুড়ে নতুন বিশপ নির্বাচন দেখাশোনা করে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো এবং পেরুতে তাঁর উল্লেখযোগ্য মিশনারি অভিজ্ঞতা (তিনি চিক্লায়ো শহরের বিশপ ছিলেন) হয়তো তাঁকে মার্কিন পোপের ধারণার বিরোধী কার্ডিনালদের কাছে কিছুটা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।

পিটার এরদো, ৭২, হাঙ্গেরি

এরদো পোপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান রক্ষণশীল প্রার্থী। এরদো ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষা ও মতবাদের দৃঢ় সমর্থক। তিনি নির্বাচিত হলে ফ্রান্সিসের পদ্ধতির থেকে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। তাঁকে একজন মহান বুদ্ধিমান এবং সংস্কৃতিমান ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রয়াত কার্ডিনাল জর্জ পেল তাঁকে পছন্দ করতেন। পেল বিশ্বাস করতেন, এরদো পোপ ফ্রান্সিসের পরের ভ্যাটিকানে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবেন।

২০১৫ সালে এরদো হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন। সে সময় তিনি অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য পোপ ফ্রান্সিসের আহ্বানকে সমর্থন করেননি।

মাত্তেও জুপ্পি, ৬৯, ইতালি

পোপ ফ্রান্সিস তাঁকে ২০১৯ সালে কার্ডিনাল করেন। জুপ্পিকে চার্চের প্রগতিশীল ধারার অনুসারী মনে করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ফ্রান্সিসের উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনিও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রান্সিসের মতো উদ্বিগ্ন। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি (আপেক্ষিকভাবে) উদারপন্থী। দুই বছর আগে ফ্রান্সিস তাঁকে ইউক্রেনের জন্য ভ্যাটিকানের শান্তি দূত করেন। এই ভূমিকায় তিনি মস্কো সফর করেন ‘মানবতার নিদর্শনকে উৎসাহিত করতে’। সেখানে তিনি রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র প্যাট্রিয়ার্ক সঙ্গে দেখা করেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও দেখা করেছেন।

জোসে টোলেন্টিনো কালাকা দে মেন্ডোনকা, ৫৯, পর্তুগাল

টোলেন্টিনো ফ্রান্সিসের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে অন্যতম তরুণ। এটি হয়তো তাঁর বিপক্ষে যেতে পারে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী কার্ডিনালরা হয়তো পরবর্তী সুযোগের জন্য আরও ২০ বা ৩০ বছর অপেক্ষা করতে চাইবেন না। সমলিঙ্গের সম্পর্কের প্রতি সহনশীলতার দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীদের ধর্মযাজক হওয়ার পক্ষে থাকা এক নারীবাদী সন্ন্যাসিনীর প্রতি সহানুভূতি দেখানোয় তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। তিনি ফ্রান্সিসের বেশির ভাগ নীতির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি মনে করেন, চার্চকে আধুনিক সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

মারিও গ্রেচ, ৬৮, মাল্টা

গ্রেচকে একসময় ঐতিহ্যবাদী হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০১৩ সালে ফ্রান্সিস পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আরও প্রগতিশীল ধারণা গ্রহণ করতে শুরু করেন। তাঁর সমর্থকেরা বলেন, তাঁর পরিবর্তিত মতামত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ক্ষমতা দেখায়। তিনি এনজিও জাহাজগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে চাওয়া ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করেছেন। তিনি নারী ডিকনদের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন।

পিয়েরবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লা, ৬০, ইতালি

২০২০ সাল থেকে পিজ্জাবাল্লা জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক। এই পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর পিজ্জাবাল্লা গাজায় হামাসের হাতে বন্দী শিশুদের বিনিময়ে নিজেকে জিম্মি হিসেবে প্রস্তাব করেন। কয়েক মাস আলোচনার পর ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি গাজা সফর করেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি ফ্রান্সিসের নেতৃত্বের কিছু দিক চালিয়ে যাবেন। তবে বিতর্কিত বিষয়ে তিনি খুব বেশি জনসমক্ষে মন্তব্য করেননি।

রবার্ট সারাহ, ৭৯, গিনি

সারাহ একজন ঐতিহ্যবাহী, অর্থোডক্স কার্ডিনাল। এক ভ্যাটিকান পর্যবেক্ষকের মতে, তিনি একসময় নিজেকে ফ্রান্সিসের ‘সমান্তরাল কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত পোপ বেনেডিক্টের সঙ্গে পুরোহিতদের ব্রহ্মচর্য রক্ষা করে একটি বই লেখেন। এটিকে ফ্রান্সিসের কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তিনি ‘লিঙ্গ মতাদর্শকে’ সমাজের জন্য হুমকি বলে নিন্দা করেছেন। তিনি ইসলামিক মৌলবাদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। টার্কসনের মতো তিনিও নির্বাচিত হলে কয়েক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পোপ হিসেবে ইতিহাস গড়তে পারেন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিন ছাড়ানোর নামে ২১টি যৌন নিপীড়ন, লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্ত্রীর পরকীয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১৫ আমল

‘সনাতন ধর্ম নির্মূল করতে হবে’, তামিলনাড়ু বিধানসভায় এমএলএর মন্তব্যে বিতর্ক

ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় শেষে মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত