Ajker Patrika

ইরানে আরও বাড়ছে পীড়ন, ইন্টারনেট বন্ধ

  • নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ এ পর্যন্ত ১২ জন নিহত।
  • ইরানের প্রায় ৪০টি শহরে এখন বিক্ষোভ হচ্ছে।
  • এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে এ বিক্ষোভ।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩: ০২
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় বাড়ছে হতাহতের ঘটনা। এ পর্যন্ত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, এ সময় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভ হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ইরানের প্রায় ৪০টি শহরে এখন বিক্ষোভ হচ্ছে। কোথাও বড় আকারে বিক্ষোভ হচ্ছে, কোথাও ছোট আকারে। এই বিক্ষোভে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। তেহরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

মূলত এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, এক সপ্তাহ আগে। সেখানে দোকানিরা দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এরপর বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দাবি ওঠে।

যা বলছে জনগণ: ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মূলত রুগ্‌ণ অর্থনীতির কারণে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে ইরানে। এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন মেহনাজ। তিনি বলেন, ‘মা ভয় পেলেও আমি বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছি।’

বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন রেজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এ বিক্ষোভ জরুরি। তবে আমরা এটা বুঝতে পেরেছি, এই শাসকের অধীনে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ তাই ভয়ে লুকিয়ে থেকে কোনো লাভ নেই বলে মনে করেন তিনি।

এই বিক্ষোভ নিয়ে খানিকটা চিন্তায় রয়েছে সরকার। কারণ ২০২২ সালে মাহশা আমিনি হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দেশ অচল হয়েছিল বিক্ষোভে। এ জন্য খানিকটা সতর্ক অবস্থা সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা বলেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি যৌক্তিক হলে তা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কোনো কোনো স্থানে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউড ফায়ার জানিয়েছে, বিক্ষোভের আগে যে পরিমাণ ইরানি ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন, এর চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম মানুষ এখন এই সেবা ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কলও দেওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে ইরান সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি দাবি করেছেন, তাঁদের দেশে সাইবার হামলা হয়েছে গতকাল রোববার। এ কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে থাকতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত