
ইরানের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট ও একজন ক্রু উদ্ধারের ঘটনাকে ‘ইস্টারের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের এই সাফল্যকে ধর্মীয় মোড়কে উপস্থাপন করায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে যুদ্ধকে একটি ‘পবিত্র কারণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
গতকাল রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এই উদ্ধার অভিযান ছিল ইস্টারের একটি অলৌকিক ঘটনা।’ তাঁর এই বক্তব্যের পর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বার্তা দিতে শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে লেখেন, ‘যিশুর পুনরুত্থানের এই পবিত্র দিনে একজন সাহসী মার্কিন যোদ্ধাকে শত্রুসীমানা থেকে উদ্ধার করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, ‘ঈশ্বর মহান’। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করার পর ওই উদ্ধারকৃত পাইলট নিজেও রেডিওতে এই একই বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করার পাশাপাশি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে ‘উন্মাদ জারজ’ বলে গালি দেন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দিয়ে লেখেন, ‘তোমাদের নরকবাস করতে হবে।’ তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তাঁর পোস্টের শেষের বাক্যটি, যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ট্রাম্পের এই ভাষার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইসলামকে উপহাস করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ট্রাম্পের ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’ বলাকে তারা মুসলিমদের বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা এবং ধর্মীয় ভাষাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে, ট্রাম্পের নিজের দলের ভেতর থেকেও সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রতিনিধি মারজোরি টেলর গ্রিনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তাঁর মতে, যিশুর শিক্ষা হলো শত্রুকে ক্ষমা ও ভালোবাসা, যুদ্ধকে উসকে দেওয়া নয়।
গত মাসে ৩০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের পরিদর্শক জেনারেল প্লাটে মোরিংকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেউ কেউ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘বাইবেলের শেষ জামানার ভবিষ্যদ্বাণী’ দিয়ে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, কোনো চরমপন্থী ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়।
উল্লেখ্য, ইরানও তাদের সামরিক প্রচারণায় নিয়মিত ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ হিসেবে চিত্রিত করে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন ধর্মীয় বাগাড়ম্বর দুই দেশের সংঘাতকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইরানের তেল নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন আমাদের দখলের অপেক্ষায় আছে, এটি নিয়ে তাদের (ইরান) কিছুই করার নেই। দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকান জনগণ চায়, আমরা বাড়ি ফিরে যাই। যদি এটি আমার ওপর নির্ভর করত, আমি ইরানের তেল নিতাম।
৩০ মিনিট আগে
ইরানের দেওয়া এই ১০ দফা-সংবলিত প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আইআরএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দফার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—
১ ঘণ্টা আগে
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১৯ জুন। থুথুকুডি জেলায় মোবাইল ফোনের দোকানদার পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিক্সকে লকডাউনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় দোকান খোলা রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
১ ঘণ্টা আগে
৫ হাজারের বেশি নাবিক, নৌ-সেনা ও বেশ কিছু হেলিকপ্টার নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উভচর জাহাজ এলএইচএ-৭ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তীব্র হামলার মুখে যুদ্ধজাহাজটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে সরে গেছে।
১ ঘণ্টা আগে