
অনেকের একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো কিংবা কঠোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা এই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
আপনি কি জানেন, ঘরের দৈনন্দিন সাধারণ কাজ, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা অথবা ছোটখাটো হাঁটাচলাই আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেজাজ নিমেষে ভালো করে দিতে পারে? গবেষকেরা বলছেন, মোটিভেশনের জন্য বসে না থেকে আজই আপনি ঘরের মেঝেটা ঝাড়ু দিন, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন কিংবা গাড়ি না নিয়ে হেঁটে কাছের দোকান থেকে ঘুরে আসুন। কারণ, মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের এই সাধারণ শারীরিক নড়াচড়াও এক ঝটকায় আপনার মানসিক শক্তি অনেকটা বাড়ানোসহ মেজাজ ভালো করে দিতে পারে।
জার্মানির কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথসহ আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি বিশাল ডেটা সেট বিশ্লেষণ করার পর দেখা গেছে, পরিকল্পিত কিছু ব্যায়ামের বাইরে আমাদের অজান্তে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন নড়াচড়াগুলোও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমান কার্যকরী। স্মার্টফোনের ট্র্যাকিং এবং পরিধানযোগ্য ফিটনেস ডিভাইসের মাধ্যমে দেখা গেছে, একজন মানুষ যখনই তাঁর সাধারণ অলস জীবনযাত্রার চেয়ে সামান্য একটু বেশি নড়াচড়া করেন, তখনই শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি এবং সতেজতা ফিরে আসে।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডক্টর দারা হুপ বলেছেন, যেকোনো শারীরিক নড়াচড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এনডোরফিন এবং ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার কিংবা হরমোন নিঃসৃত হয়। এগুলো আমাদের মন ভালো করে দেয়। এ ছাড়া কাজের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে তোলে। অনেক সময় আমরা ভাবি, ‘আগে ইচ্ছা করুক, তারপর কাজ করব’। কিন্তু বিজ্ঞানের নিয়ম হলো, আপনাকে ছোট একটি কাজ আগে শুরু করতে হবে। তারপর মস্তিষ্ক ডোপামিন পুরস্কার দেবে, যা আপনাকে পরবর্তী বড় কাজটি করার ক্ষেত্রে মোটিভেশন জোগাবে। একে বলা হয় স্নোবল এফেক্ট। মাত্র ১৫টি জাম্পিং জ্যাক কিংবা ১০ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে আপনি এই চক্র শুরু করতে পারেন।
ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স টমোগ্রাফি কিংবা ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখেছেন, আমাদের মস্তিষ্কের সাবজেনুয়াল সিঙ্গুলেট কর্টেক্স নামক অংশটি আবেগ এবং মানসিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। যাঁদের মস্তিষ্কের এই অংশে গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থের পরিমাণ কম, তাঁদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে অলস বসে থাকলে তাঁরা দ্রুত মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু আশার কথা হলো, এই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা যখনই সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা হাঁটার মতো সাধারণ কাজ করেন, তখন সাধারণ মানুষের চেয়ে দ্রুত তাঁদের বেশি মানসিক শক্তি ফিরে আসে।
মানসিক সুস্থতা মানে শুধু রোগের অনুপস্থিতি নয়, এটি হলো মন ও শরীরের এক সুন্দর ভারসাম্য। তাই শরীর ও মন চাঙা রাখতে আজই লিফট বর্জন করুন, ঘরের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন আর অলসতা দূর করতে ছোট ছোট পদক্ষেপে শুরু করে দিন। জীবনযাত্রায় ছোট ছোট এসব পরিবর্তন এনে সহজে মন ফুরফুরে রাখা যায়। এ জন্য আরও যা করতে পারেন—
সূত্র: হেলথ লাইন, ট্যাটলার এশিয়া

দেশে গত পাঁচ মাসে হাম এবং এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে নয় শর বেশি মানুষ। মৃতদের বেশির ভাগ শিশু। হামের প্রকোপ ঠেকাতে নেওয়া বিশেষ কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ ও মৃত্যু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধে মৃত্যু কমলেও...
৮ ঘণ্টা আগে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
১৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২০ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। গত পাঁচ মাসে সারা দেশে আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
১ দিন আগে