
বাতরোগ সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা বলে বিবেচিত। কিন্তু শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকেরা ভাবেন, এই বয়সে এমন ব্যথা বা অস্বস্তি সাময়িক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক শিশু দীর্ঘস্থায়ী বাতরোগে ভোগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই রোগকে বলা হয় জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রারাইটিস (জেআইএ) বা শিশু বাতরোগ। এই রোগ মূলত অল্প বয়সী শিশুদের শরীরের জয়েন্ট বা গাঁটে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
রোগটি সাধারণত ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং তিন সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। কখনো কখনো একাধিক গাঁটে একযোগে প্রদাহ দেখা যায়। এ অবস্থা শিশুর দৈনন্দিন চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া, এমনকি পড়াশোনার ওপরেও প্রভাব ফেলে।
শিশুদের বাতরোগের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো—
» সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হওয়া।
» এক বা একাধিক গাঁটে ফোলা, ব্যথা বা গরম অনুভব।
» খেলাধুলা এবং আগের মতো দৌড়ঝাঁপ না করা।
» জ্বর দেখা দেওয়া।
» শরীর ক্লান্ত, মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়া।
এই লক্ষণগুলো সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণ বা অন্যান্য অস্থায়ী অসুস্থতার মতো মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই শিশু বাতরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোগের ধরন
» সীমিত গাঁটে বাত (এক বা দুটি গাঁটে প্রদাহ)
» বিস্তৃত গাঁটে বাত (পাঁচ বা তার বেশি গাঁটে একসঙ্গে প্রদাহ)
» জ্বরসহ বাত (সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রা, লালচে চামড়া ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের প্রদাহ)
» হাড়ের সংযোগস্থলে প্রদাহ
» প্রতিটি শ্রেণির উপসর্গ ও চিকিৎসাপদ্ধতি আলাদা। ফলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে লক্ষণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
এই রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, অস্থিসন্ধি আলট্রাসনোগ্রাফি এবং প্রয়োজনে আরও উন্নত পরীক্ষার দরকার হতে পারে। শিশুদের শরীর অনেক সময় রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাই পারিপার্শ্বিক আচরণ, খাওয়াদাওয়া, ঘুম ও চলাফেরায় পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসা ও যত্ন
শিশুদের বাতরোগে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। সাধারণত ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ওষুধ দেওয়া হয়। কখনো কখনো বিশেষ ওষুধের সাহায্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়; যাতে প্রদাহ বারবার না হয়। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম ও মনোসংযোগমূলক খেলাধুলা চিকিৎসার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ রোগে শুধু ওষুধে নির্ভর না করে পরিবারের মানসিক সহায়তাও অপরিহার্য। শিশুকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করা, তার আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি।
শিশুদের বাতরোগ মোটেও অবহেলার বিষয় নয়। এই রোগ যথাসময়ে ধরা পড়লে নিয়মিত চিকিৎসা এবং যত্নের মাধ্যমে বেশির ভাগ শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে। তাই শিশুর হাঁটাচলার ধরনে বা আচরণে পরিবর্তন দেখলেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
পরামর্শ দিয়েছেন: রেসিডেন্ট, বিএমইউ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৬১ জন রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৯ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও নয়জন নারী।
১৬ ঘণ্টা আগে
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় জোরেশোরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ। বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীর ৪৮ শতাংশই ভর্তি হয়েছে জুন মাসে। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডেঙ্গু ঊর্ধ্বমুখী।
১ দিন আগে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১১৪ জনের। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৫ ও নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৮।
২ দিন আগে
‘বাংলাদেশে কমিউনিটি-ভিত্তিক প্যালিয়েটিভ কেয়ারে প্রথম শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক গঠনে’র উদ্দেশ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে সচেতনতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ২০ ঘণ্টাব্যাপী প্রশিক্ষণ...
২ দিন আগে