ডা. মো. সাইদুর রহমান

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা গেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সেরে যায়।
ব্যথার কারণ
হাঁটুর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বয়সজনিত অস্থিসন্ধির ক্ষয়। এ ছাড়া হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত পাওয়ায় অস্থিসন্ধির মাঝের দূরত্ব কমে যাওয়া, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগে ভোগার পরিমাণ বেশি।
উপসর্গ
চিকিৎসা পদ্ধতি
হাঁটুর ব্যথায় বরফ কিংবা গরম পানির সেঁক আরাম দিতে পারে। তবে কখন ও কোন প্রক্রিয়ায় সেঁক দেবেন সেটির জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আঘাতের কারণে হাঁটুতে ব্যথা হলে প্রাথমিক পর্যায়ে বরফ ঠান্ডা সেঁক আরাম দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথায় গরম পানির সেঁক সবচেয়ে কার্যকারী।
লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট (ফিজিও), দি রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ফিনিক্স টাওয়ার, তেজগাঁও, ঢাকা।

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা গেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সেরে যায়।
ব্যথার কারণ
হাঁটুর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বয়সজনিত অস্থিসন্ধির ক্ষয়। এ ছাড়া হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত পাওয়ায় অস্থিসন্ধির মাঝের দূরত্ব কমে যাওয়া, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগে ভোগার পরিমাণ বেশি।
উপসর্গ
চিকিৎসা পদ্ধতি
হাঁটুর ব্যথায় বরফ কিংবা গরম পানির সেঁক আরাম দিতে পারে। তবে কখন ও কোন প্রক্রিয়ায় সেঁক দেবেন সেটির জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আঘাতের কারণে হাঁটুতে ব্যথা হলে প্রাথমিক পর্যায়ে বরফ ঠান্ডা সেঁক আরাম দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথায় গরম পানির সেঁক সবচেয়ে কার্যকারী।
লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট (ফিজিও), দি রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ফিনিক্স টাওয়ার, তেজগাঁও, ঢাকা।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা...
২ দিন আগে
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।
৩ দিন আগে
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে।
৩ দিন আগে
ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়।
৩ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা।
আজ শনিবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির ও মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন। ওই কর্মশালা বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং ঔষুধ শিল্প সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ওষুধ শিল্পের প্রকৃত শক্তি কখনোই কেবল বড় কয়েকটি কোম্পানি ছিল না; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোই এই শিল্পের ভিত্তি। অথচ বর্তমানে সেই ভিত্তিই ভেঙে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, তালিকাভুক্ত ওষুধ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকিগুলো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশেষ করে ৫০ থেকে ১০০ নম্বর অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো গত ৩০–৪০ বছর ধরে একই দামে ওষুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৯০ সালে যে দামে ওষুধ বিক্রি হতো, ২০২৫-২৬ সালেও সরকার সেই দাম বাড়াতে দিচ্ছে না। অথচ কাঁচামাল, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব।’
১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের স্বর্ণযুগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তাদির বলেন, ‘ওই নীতির ফলে দেশ ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্যমূলক নীতি ও বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত শিল্পকে দুর্বল করে দিয়েছে।’ অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বোঝাতে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন।
এদিকে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছে এবং দাম নির্ধারণ করেছে। তার মতে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য ও বাজার বাস্তবতা উপেক্ষা করছে।
ডা. জাকির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা দাম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করলে তা টেকসই হয় না। গত আট থেকে নয় মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সঙ্গে বাপির কোনো কার্যকর যোগাযোগ নেই। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইসিং কমিটি থেকেও শিল্প সংগঠনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
ডা. জাকির হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। কাঁচামাল আমদানি থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মোট ১৪টি সরকারি সংস্থায় রিপোর্ট দিতে হয়, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। তার ভাষায়, এত কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরও শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সমিতির নেতারা সতর্ক করে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে বড় কোম্পানিগুলো রপ্তানিমুখী হয়ে পড়বে, ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের প্রাপ্যতা, দাম ও মান—সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। তারা সরকারের প্রতি জরুরি নীতি সহায়তা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ এবং সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা।
আজ শনিবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির ও মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন। ওই কর্মশালা বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং ঔষুধ শিল্প সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ওষুধ শিল্পের প্রকৃত শক্তি কখনোই কেবল বড় কয়েকটি কোম্পানি ছিল না; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোই এই শিল্পের ভিত্তি। অথচ বর্তমানে সেই ভিত্তিই ভেঙে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, তালিকাভুক্ত ওষুধ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকিগুলো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশেষ করে ৫০ থেকে ১০০ নম্বর অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো গত ৩০–৪০ বছর ধরে একই দামে ওষুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৯০ সালে যে দামে ওষুধ বিক্রি হতো, ২০২৫-২৬ সালেও সরকার সেই দাম বাড়াতে দিচ্ছে না। অথচ কাঁচামাল, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব।’
১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের স্বর্ণযুগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তাদির বলেন, ‘ওই নীতির ফলে দেশ ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্যমূলক নীতি ও বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত শিল্পকে দুর্বল করে দিয়েছে।’ অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বোঝাতে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন।
এদিকে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছে এবং দাম নির্ধারণ করেছে। তার মতে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য ও বাজার বাস্তবতা উপেক্ষা করছে।
ডা. জাকির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা দাম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করলে তা টেকসই হয় না। গত আট থেকে নয় মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সঙ্গে বাপির কোনো কার্যকর যোগাযোগ নেই। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইসিং কমিটি থেকেও শিল্প সংগঠনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
ডা. জাকির হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। কাঁচামাল আমদানি থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মোট ১৪টি সরকারি সংস্থায় রিপোর্ট দিতে হয়, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। তার ভাষায়, এত কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরও শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সমিতির নেতারা সতর্ক করে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে বড় কোম্পানিগুলো রপ্তানিমুখী হয়ে পড়বে, ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের প্রাপ্যতা, দাম ও মান—সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। তারা সরকারের প্রতি জরুরি নীতি সহায়তা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ এবং সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।
৩ দিন আগে
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে।
৩ দিন আগে
ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়।
৩ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত। সে সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অনেকে অবস্থান নিলেও শক্ত কোনো প্রমাণ ছিল না। এবার গবেষণার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ট্রাম্পের এই দাবির কোনো প্রমাণ নেই।
বিজ্ঞান ও গবেষণাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে গবেষণাটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের ‘আশ্বস্ত বোধ’ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ নিরাপদ এবং এটি শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা অন্য কোনো বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
‘দ্য ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস, গাইনোকোলজি অ্যান্ড উইমেনস হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ৪৩টি স্টাডি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই গবেষণার অংশ হিসেবে গর্ভধারণ করা অবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ করেছিলেন এবং করেননি এমন লাখ লাখ নারীকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো দাবি করছেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের বিষয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
প্যারাসিটামল বা এর ব্র্যান্ড সংস্করণ ‘টাইলেনল’ গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রধান ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ সেবনের সঙ্গে শিশুদের অটিজমের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রশাসন। তাঁদের এই দাবি বিশ্বজুড়ে অনেক চিকিৎসককে হতবাক করেছিল।
তাঁদের এই দাবিগুলোর ফলে নারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে নতুন এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
গবেষকেরা জানান, ভাইবোনদের ওপর করা উচ্চমানের এই গবেষণাগুলোর কারণে জিনগত পার্থক্য এবং পারিবারিক পরিবেশের মতো অন্য প্রভাবকগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যা এই পর্যালোচনাটিকে একটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা অনন্য মানদণ্ডে উন্নীত করেছে।
এই গবেষণায় এমন গবেষণাগুলো থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে পক্ষপাতের ঝুঁকি কম এবং শিশুদের পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যাতে প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা যায়।
গবেষণার প্রধান লেখক ও কনসালট্যান্ট প্রসূতিবিদ অধ্যাপক আসমা খলিল বিবিসিকে বলেন, ‘বিশ্লেষণটি করার পর আমরা কোনো ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পাইনি। কোনো সম্পর্ক নেই, এমন কোনো প্রমাণও নেই যে প্যারাসিটামল অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়।’
আসমা খলিল আরও বলেন, ‘বার্তাটি স্পষ্ট, নির্দেশনা মেনে সেবন করা হলে গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল এখনো একটি নিরাপদ বিকল্প।’
এই গবেষণার ফলাফল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান চিকিৎসা সংস্থাগুলোর দেওয়া নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সাধারণ এই ব্যথানাশকের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।
পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, অতীতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধির যে সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল, তা সম্ভবত অন্য কারণের (জিন বা পরিবেশ) ফল। তা প্যারাসিটামলের সরাসরি প্রভাবের কারণে নয়।
সিটি সেন্ট জর্জ’স, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক আসমা খলিল বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্যথা বা জ্বরের উপশম হিসেবে গর্ভবতী নারীদের আমরা যেসব ওষুধ সুপারিশ করি, তার মধ্যে প্রথম সারিতে থাকে প্যারাসিটামল।’
স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় জ্বর বেশি হলে বা ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ না করলে নারী এবং অনাগত সন্তানের ঝুঁকি থাকে। এটি গর্ভপাত, অকাল জন্ম বা শিশুর বিকাশজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় যুক্ত নন, এমন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও এই গবেষণার ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে গর্ভবতী নারীদের অকারণ উদ্বেগ কমবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক গ্রেইন ম্যাকঅ্যালোনান বলেন, ‘মাথাব্যথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি ওষুধও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এ নিয়ে মানসিক চাপে গর্ভবতী নারীদের আর ভুগতে হবে না।’ এই গবেষণাটি বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ইয়ান ডগলাস জানান, এই পর্যালোচনাটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালিত হয়েছে। কারণ, এতে নিম্নমানের গবেষণাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্যারাসিটামল ব্যবহারকারী এবং অব্যবহারকারী মায়েদের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো (যেমন অন্তর্নিহিত অসুস্থতা) বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার নিউরোসায়েন্টিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট অধ্যাপক জান হাভিক বলেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে অটিজম, এডিএইচডি বা বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই, এ বিষয়ের পক্ষে ‘জোরালো প্রমাণ’ এই গবেষণাটি। এই প্রশ্নের কার্যত অবসান ঘটানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে কাজ করা বিজ্ঞানীদের মতে, অটিজম হলো জেনেটিক এবং পরিবেশগতসহ বিভিন্ন জটিল কারণের সংমিশ্রণ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) এক মুখপাত্র বলেন, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেনের (যুক্তরাষ্ট্রে প্যারাসিটামলের নাম) ব্যবহার নিয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের আগস্টে হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ডক্টর অ্যান্ড্রু ব্যাকারেলির নেতৃত্বে করা একটি পর্যালোচনার কথা। সেখানে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহার শিশুদের অটিজম এবং এডিএইচডির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ওই পর্যালোচনায় বিশেষ করে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার’ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এর কয়েক মাস আগে, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র অটিজম কেস বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে ওভাল অফিসে এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গর্ভবতী নারীদের এই ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব না করার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) চিকিৎসকদের উদ্দেশে একটি চিঠি জারি করে গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে তারা জানায়, এটি এখনো গর্ভাবস্থায় জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য একমাত্র অনুমোদিত ওষুধ।
এফডিএর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ওষুধ এবং স্নায়বিক সমস্যার মধ্যে কার্যত কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য এখনো সবচেয়ে নিরাপদ ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত। সে সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অনেকে অবস্থান নিলেও শক্ত কোনো প্রমাণ ছিল না। এবার গবেষণার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ট্রাম্পের এই দাবির কোনো প্রমাণ নেই।
বিজ্ঞান ও গবেষণাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে গবেষণাটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের ‘আশ্বস্ত বোধ’ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ নিরাপদ এবং এটি শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা অন্য কোনো বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
‘দ্য ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস, গাইনোকোলজি অ্যান্ড উইমেনস হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ৪৩টি স্টাডি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই গবেষণার অংশ হিসেবে গর্ভধারণ করা অবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণ করেছিলেন এবং করেননি এমন লাখ লাখ নারীকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো দাবি করছেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের বিষয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
প্যারাসিটামল বা এর ব্র্যান্ড সংস্করণ ‘টাইলেনল’ গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রধান ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধ সেবনের সঙ্গে শিশুদের অটিজমের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রশাসন। তাঁদের এই দাবি বিশ্বজুড়ে অনেক চিকিৎসককে হতবাক করেছিল।
তাঁদের এই দাবিগুলোর ফলে নারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে নতুন এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
গবেষকেরা জানান, ভাইবোনদের ওপর করা উচ্চমানের এই গবেষণাগুলোর কারণে জিনগত পার্থক্য এবং পারিবারিক পরিবেশের মতো অন্য প্রভাবকগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যা এই পর্যালোচনাটিকে একটি ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা অনন্য মানদণ্ডে উন্নীত করেছে।
এই গবেষণায় এমন গবেষণাগুলো থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে পক্ষপাতের ঝুঁকি কম এবং শিশুদের পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যাতে প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করা যায়।
গবেষণার প্রধান লেখক ও কনসালট্যান্ট প্রসূতিবিদ অধ্যাপক আসমা খলিল বিবিসিকে বলেন, ‘বিশ্লেষণটি করার পর আমরা কোনো ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পাইনি। কোনো সম্পর্ক নেই, এমন কোনো প্রমাণও নেই যে প্যারাসিটামল অটিজমের ঝুঁকি বাড়ায়।’
আসমা খলিল আরও বলেন, ‘বার্তাটি স্পষ্ট, নির্দেশনা মেনে সেবন করা হলে গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল এখনো একটি নিরাপদ বিকল্প।’
এই গবেষণার ফলাফল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান চিকিৎসা সংস্থাগুলোর দেওয়া নির্দেশনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সাধারণ এই ব্যথানাশকের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।
পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, অতীতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধির যে সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল, তা সম্ভবত অন্য কারণের (জিন বা পরিবেশ) ফল। তা প্যারাসিটামলের সরাসরি প্রভাবের কারণে নয়।
সিটি সেন্ট জর্জ’স, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক আসমা খলিল বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্যথা বা জ্বরের উপশম হিসেবে গর্ভবতী নারীদের আমরা যেসব ওষুধ সুপারিশ করি, তার মধ্যে প্রথম সারিতে থাকে প্যারাসিটামল।’
স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় জ্বর বেশি হলে বা ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ না করলে নারী এবং অনাগত সন্তানের ঝুঁকি থাকে। এটি গর্ভপাত, অকাল জন্ম বা শিশুর বিকাশজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় যুক্ত নন, এমন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও এই গবেষণার ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে গর্ভবতী নারীদের অকারণ উদ্বেগ কমবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক গ্রেইন ম্যাকঅ্যালোনান বলেন, ‘মাথাব্যথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি ওষুধও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এ নিয়ে মানসিক চাপে গর্ভবতী নারীদের আর ভুগতে হবে না।’ এই গবেষণাটি বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ইয়ান ডগলাস জানান, এই পর্যালোচনাটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালিত হয়েছে। কারণ, এতে নিম্নমানের গবেষণাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্যারাসিটামল ব্যবহারকারী এবং অব্যবহারকারী মায়েদের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো (যেমন অন্তর্নিহিত অসুস্থতা) বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার নিউরোসায়েন্টিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট অধ্যাপক জান হাভিক বলেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল ব্যবহারের সঙ্গে অটিজম, এডিএইচডি বা বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই, এ বিষয়ের পক্ষে ‘জোরালো প্রমাণ’ এই গবেষণাটি। এই প্রশ্নের কার্যত অবসান ঘটানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে কাজ করা বিজ্ঞানীদের মতে, অটিজম হলো জেনেটিক এবং পরিবেশগতসহ বিভিন্ন জটিল কারণের সংমিশ্রণ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) এক মুখপাত্র বলেন, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেনের (যুক্তরাষ্ট্রে প্যারাসিটামলের নাম) ব্যবহার নিয়ে ‘অনেক বিশেষজ্ঞ’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের আগস্টে হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ডক্টর অ্যান্ড্রু ব্যাকারেলির নেতৃত্বে করা একটি পর্যালোচনার কথা। সেখানে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহার শিশুদের অটিজম এবং এডিএইচডির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ওই পর্যালোচনায় বিশেষ করে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার’ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এর কয়েক মাস আগে, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র অটিজম কেস বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে ওভাল অফিসে এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গর্ভবতী নারীদের এই ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব না করার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ) চিকিৎসকদের উদ্দেশে একটি চিঠি জারি করে গর্ভাবস্থায় অ্যাসিটামিনোফেন ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে তারা জানায়, এটি এখনো গর্ভাবস্থায় জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য একমাত্র অনুমোদিত ওষুধ।
এফডিএর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ওষুধ এবং স্নায়বিক সমস্যার মধ্যে কার্যত কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য এখনো সবচেয়ে নিরাপদ ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল।

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা...
২ দিন আগে
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে।
৩ দিন আগে
ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়।
৩ দিন আগেডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে নাক-কান-গলার বহু সমস্যাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন:
কান পরিষ্কারে সতর্কতা
কটন বাড বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে কান খোঁচানো নিরাপদ নয়। এতে কানের ভেতরে সংক্রমণ হতে পারে, এমনকি কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। আসলে কানের ময়লা বা ওয়াক্স একটি প্রাকৃতিক ও উপকারী উপাদান। এটি কানের ভেতরের অংশকে জীবাণু ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা করে এবং স্বাভাবিক নিয়মে ধীরে ধীরে বাইরে চলে আসে। গোসল শেষে একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ মুছে নেওয়াই যথেষ্ট। কানের ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই।
চিৎকার বা অতিরিক্ত জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলা
দীর্ঘদিন জোরে কথা বলা বা চিৎকার করার ফলে কণ্ঠনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ভোকাল কর্ডে নোডিউল বা পলিপ সৃষ্টি হতে পারে, কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও দেখা দেয়। পেশাগত কারণে যাদের বেশি কথা বলতে হয়, এ বিষয়ে তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।
সুপারি, জর্দা ও গুল পরিহার করা
সুপারি ও তামাকজাত দ্রব্য মুখগহ্বরের ক্যানসারের একটি প্রমাণিত কারণ। এগুলো নিয়মিত সেবনে মুখ, জিবা ও গলার মারাত্মক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এসব ক্ষতিকর অভ্যাস বাদ দেওয়া সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।
উচ্চ আওয়াজে হেডফোন
ব্যবহার না করা
অনেকেই দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করে, যা ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয় এবং অকাল বধিরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একই ঝুঁকি থাকে উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও। হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখুন ৬০-৬০ রুল। এর মানে, ভলিউম ৬০ ডেসিবেলের কম এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করা। এ সহজ নিয়ম মেনে চললে কানের ক্ষতি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
ধূমপান বাদ দেওয়া
ধূমপান নাক-কান-গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি দীর্ঘ মেয়াদে কণ্ঠস্বর, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। সুস্থ জীবনের জন্য ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া জরুরি।

নাকের হাড় বাঁকা হলেই অপারেশন নয়
অধিকাংশ মানুষের নাকের মাঝখানের হাড় কিছুটা বাঁকা থাকে বা নাকের ভেতরের মাংস (টার্বিনেট) সামান্য বড় হয়, যা অনেক সময় স্বাভাবিক। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট, ঘন ঘন সাইনাস সংক্রমণ, দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ না থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। অন্যদিকে নাক বন্ধের সমস্যা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারে প্রচলিত নাকের ড্রপ ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। এসব ড্রপ অতিরিক্ত ব্যবহারে নাকের ভেতরের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
টনসিল ব্যথা হলেই অপারেশন নয়
টনসিলের সংক্রমণ বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার না হলে এবং অপারেশনের মানদণ্ড পূরণ না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ওষুধ দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসায় টনসিলের সমস্যা সেরে যায়। ঠান্ডা পানীয় ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কোয়াক বা কবিরাজি চিকিৎসা থেকে সাবধান
নাকের সমস্যায় অবৈজ্ঞানিক বা কোয়াক চিকিৎসার কারণে অনেক সময় নাকের ভেতরে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুই পাশ একসঙ্গে লেগে যাওয়া (সাইনেকিয়া) কিংবা নাকের মাঝের পর্দায় ছিদ্র তৈরি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে কখনো কখনো অনিরাময়যোগ্য হয়ে ওঠে।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া
বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক চুলকানোকে অবহেলা করবেন না। নাকের অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে, ধুলাবালু, ঠান্ডা, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য এবং কয়েলের গন্ধ, সুগন্ধি বা বডি স্প্রের মতো নির্দিষ্ট ঘ্রাণ। ব্যক্তিভেদে অ্যালার্জির কারণ ভিন্ন হতে পারে।
ঘাড়ে ফোলা বা চাকা হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো
গলা বা ঘাড়ের যেকোনো ফোলা বা চাকা ব্যথাহীন হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এটি লিম্ফ গ্রন্থির সংক্রমণ, গ্লান্ড টিবি, টিউমার কিংবা গলগণ্ডসহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলার কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত এবং ঠান্ডা এড়িয়ে করে চলা নাক-কান-গলার স্বাস্থ্যরক্ষা করতে সহায়ক।
চিকিৎসকের পরমর্শ: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে নাক-কান-গলার বহু সমস্যাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন:
কান পরিষ্কারে সতর্কতা
কটন বাড বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে কান খোঁচানো নিরাপদ নয়। এতে কানের ভেতরে সংক্রমণ হতে পারে, এমনকি কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। আসলে কানের ময়লা বা ওয়াক্স একটি প্রাকৃতিক ও উপকারী উপাদান। এটি কানের ভেতরের অংশকে জীবাণু ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা করে এবং স্বাভাবিক নিয়মে ধীরে ধীরে বাইরে চলে আসে। গোসল শেষে একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ মুছে নেওয়াই যথেষ্ট। কানের ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই।
চিৎকার বা অতিরিক্ত জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলা
দীর্ঘদিন জোরে কথা বলা বা চিৎকার করার ফলে কণ্ঠনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ভোকাল কর্ডে নোডিউল বা পলিপ সৃষ্টি হতে পারে, কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও দেখা দেয়। পেশাগত কারণে যাদের বেশি কথা বলতে হয়, এ বিষয়ে তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।
সুপারি, জর্দা ও গুল পরিহার করা
সুপারি ও তামাকজাত দ্রব্য মুখগহ্বরের ক্যানসারের একটি প্রমাণিত কারণ। এগুলো নিয়মিত সেবনে মুখ, জিবা ও গলার মারাত্মক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এসব ক্ষতিকর অভ্যাস বাদ দেওয়া সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।
উচ্চ আওয়াজে হেডফোন
ব্যবহার না করা
অনেকেই দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করে, যা ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয় এবং অকাল বধিরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একই ঝুঁকি থাকে উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও। হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখুন ৬০-৬০ রুল। এর মানে, ভলিউম ৬০ ডেসিবেলের কম এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করা। এ সহজ নিয়ম মেনে চললে কানের ক্ষতি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
ধূমপান বাদ দেওয়া
ধূমপান নাক-কান-গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি দীর্ঘ মেয়াদে কণ্ঠস্বর, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। সুস্থ জীবনের জন্য ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া জরুরি।

নাকের হাড় বাঁকা হলেই অপারেশন নয়
অধিকাংশ মানুষের নাকের মাঝখানের হাড় কিছুটা বাঁকা থাকে বা নাকের ভেতরের মাংস (টার্বিনেট) সামান্য বড় হয়, যা অনেক সময় স্বাভাবিক। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট, ঘন ঘন সাইনাস সংক্রমণ, দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ না থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। অন্যদিকে নাক বন্ধের সমস্যা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারে প্রচলিত নাকের ড্রপ ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। এসব ড্রপ অতিরিক্ত ব্যবহারে নাকের ভেতরের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
টনসিল ব্যথা হলেই অপারেশন নয়
টনসিলের সংক্রমণ বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার না হলে এবং অপারেশনের মানদণ্ড পূরণ না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ওষুধ দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসায় টনসিলের সমস্যা সেরে যায়। ঠান্ডা পানীয় ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কোয়াক বা কবিরাজি চিকিৎসা থেকে সাবধান
নাকের সমস্যায় অবৈজ্ঞানিক বা কোয়াক চিকিৎসার কারণে অনেক সময় নাকের ভেতরে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুই পাশ একসঙ্গে লেগে যাওয়া (সাইনেকিয়া) কিংবা নাকের মাঝের পর্দায় ছিদ্র তৈরি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে কখনো কখনো অনিরাময়যোগ্য হয়ে ওঠে।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া
বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক চুলকানোকে অবহেলা করবেন না। নাকের অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে, ধুলাবালু, ঠান্ডা, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য এবং কয়েলের গন্ধ, সুগন্ধি বা বডি স্প্রের মতো নির্দিষ্ট ঘ্রাণ। ব্যক্তিভেদে অ্যালার্জির কারণ ভিন্ন হতে পারে।
ঘাড়ে ফোলা বা চাকা হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো
গলা বা ঘাড়ের যেকোনো ফোলা বা চাকা ব্যথাহীন হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এটি লিম্ফ গ্রন্থির সংক্রমণ, গ্লান্ড টিবি, টিউমার কিংবা গলগণ্ডসহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলার কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত এবং ঠান্ডা এড়িয়ে করে চলা নাক-কান-গলার স্বাস্থ্যরক্ষা করতে সহায়ক।
চিকিৎসকের পরমর্শ: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা...
২ দিন আগে
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।
৩ দিন আগে
ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়।
৩ দিন আগেমো. ইকবাল হোসেন

ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি কতটুকু বৈজ্ঞানিক?
খাবারের প্রধান উপাদান ছয়টি–শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলোর মধ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে।
ফলে ডায়েটের নামে খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়। দেশ অঞ্চলভেদে মানুষের প্রধান খাবার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। গম ও ভুট্টা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাবার। মাংস, আলু ও পাস্তা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো অঞ্চলে বেশি প্রচলিত।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষের কর্মকাণ্ডের বিবর্তন ঘটে। আমরা যখন একধরনের খাবার দীর্ঘ সময় ধরে খেতে থাকি, তখন আমাদের কোষগুলোর কর্মকাণ্ড ওই খাবারকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। আমরা ৬ মাস বয়সের পর থেকে প্রধান খাবার হিসেবে ভাত বা ভাতজাতীয় শর্করা খেতে অভ্যস্ত। আবার আমাদের দেশের মায়েরাও গর্ভাবস্থায় একই ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত। সে জন্য আমাদের কোষের কর্মকাণ্ডে শর্করার প্রভাব বেশি। ফলে শর্করা একেবারে বাদ দিলে কোষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এটি আমাদের জ্বালানি। নিয়ম হচ্ছে শর্করা খেয়ে সেটা পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা বেশি পরিমাণে এটি খেলেও তার সবটুকু ব্যয় করার মতো শারীরিক পরিশ্রম করি না। সমস্যাটা এখানেই।
করণীয় কী
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই মেপে করি। কিন্তু খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে খুব উদাসীন থাকি। সুস্বাদু হলে পরিমাণে বেশি খাই, না হলে খাই না। খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের এমন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে হবে। খাবার সব সময় পরিমিত খেতে হবে। এমনকি পানিও অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। সময় ও বয়সের সঙ্গে শর্করার ধরন এবং পরিমাণ মানিয়ে নিতে হবে। সে সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী শর্করা বাছাই করা শিখতে হবে।
যেসব শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চিনি, গুড়, ময়দা, সাদা আটা, নুডলস, আতপ চাল, চালের আটা বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল আটা, লাল চাল, ওটস, বার্লি, বার্লিফ্ল্যাক্স, পপকর্ন বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ খাবারের গুণাবলি ও পরিমাণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
শর্করা বন্ধ করলে যেসব সমস্যা হয়
তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে সবার আগে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপরে ছুরি চালাবেন না। আপনার বয়স, ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে জটিল শর্করা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ওজন কমানোর জন্য শর্করা পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে এটি গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি কতটুকু বৈজ্ঞানিক?
খাবারের প্রধান উপাদান ছয়টি–শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলোর মধ্যে শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে।
ফলে ডায়েটের নামে খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া মোটেও উচিত নয়। দেশ অঞ্চলভেদে মানুষের প্রধান খাবার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। গম ও ভুট্টা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের প্রধান খাবার। মাংস, আলু ও পাস্তা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার মতো অঞ্চলে বেশি প্রচলিত।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষের কর্মকাণ্ডের বিবর্তন ঘটে। আমরা যখন একধরনের খাবার দীর্ঘ সময় ধরে খেতে থাকি, তখন আমাদের কোষগুলোর কর্মকাণ্ড ওই খাবারকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। আমরা ৬ মাস বয়সের পর থেকে প্রধান খাবার হিসেবে ভাত বা ভাতজাতীয় শর্করা খেতে অভ্যস্ত। আবার আমাদের দেশের মায়েরাও গর্ভাবস্থায় একই ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত। সে জন্য আমাদের কোষের কর্মকাণ্ডে শর্করার প্রভাব বেশি। ফলে শর্করা একেবারে বাদ দিলে কোষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এটি আমাদের জ্বালানি। নিয়ম হচ্ছে শর্করা খেয়ে সেটা পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা বেশি পরিমাণে এটি খেলেও তার সবটুকু ব্যয় করার মতো শারীরিক পরিশ্রম করি না। সমস্যাটা এখানেই।
করণীয় কী
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুই মেপে করি। কিন্তু খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে খুব উদাসীন থাকি। সুস্বাদু হলে পরিমাণে বেশি খাই, না হলে খাই না। খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের এমন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে হবে। খাবার সব সময় পরিমিত খেতে হবে। এমনকি পানিও অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। সময় ও বয়সের সঙ্গে শর্করার ধরন এবং পরিমাণ মানিয়ে নিতে হবে। সে সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী শর্করা বাছাই করা শিখতে হবে।
যেসব শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চিনি, গুড়, ময়দা, সাদা আটা, নুডলস, আতপ চাল, চালের আটা বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল আটা, লাল চাল, ওটস, বার্লি, বার্লিফ্ল্যাক্স, পপকর্ন বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অর্থাৎ খাবারের গুণাবলি ও পরিমাণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
শর্করা বন্ধ করলে যেসব সমস্যা হয়
তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে সবার আগে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপরে ছুরি চালাবেন না। আপনার বয়স, ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে জটিল শর্করা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ওজন কমানোর জন্য শর্করা পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে এটি গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

মানবদেহের ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি আছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেই হাঁটুর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা...
২ দিন আগে
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।
৩ দিন আগে
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে।
৩ দিন আগে