দেশে প্রতি তিনজনে একজন বাত রোগ বা আর্থ্রাইটিসে ভোগেন। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাংসপেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত। এ কারণে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রিউমাটোলোজি বিভাগ খোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত ‘জয়েন্ট পেইন’ বিষয়ক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আজ রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ব্লক মিলনায়তনে বিএসএমএমইউয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাবকমিটি এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে অস্থিসন্ধির ব্যথাবিষয়ক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ ‘ফিজিয়াট্রিক ম্যানেজমেন্ট অব জয়েন্ট পেইন’, শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিশু রিউমাটোলোজি ডিভিশনের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ডা. মানিক কুমার তালুকদার ‘অ্যাপ্রোচ টু দ্য পেডিয়াট্রিক পেশেন্টস প্রেজেন্টিং উইথ জয়েন্ট পেইন’ এবং রিউমাটোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) সৈয়দ জামিল আব্দাল ‘অ্যাপ্রোচ টু দ্য অ্যাডাল্ট পেশেন্টস প্রেজেন্টিং উইথ জয়েন্ট পেইন’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রিউমাটোলোজি বিভাগ খোলা উচিত। বাংলাদেশে বাত রোগের চিকিৎসক বা রিউমাটোলোজিস্টের সংখ্যা খুবই কম। দেশে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও রিউমাটোলোজিতে উচ্চতর শিক্ষা নেওয়ার (এমডি) সুযোগ নেই। তাই সরকারি বড় বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কোর্স চালু করা প্রয়োজন।
সেমিনারে জানানো হয়, শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ শিশু বিভিন্ন ধরনের মাংসপেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত। শিশুদের এই সমস্যাগুলো ক্রমে বেড়েই চলেছে।
এর লক্ষণগুলোর মধ্য রয়েছে—অস্থিসন্ধি নাড়াতে না পারা, নাড়ানোর সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া, অস্থিসন্ধি গরম হয়ে যাওয়া। এ রোগ হলে রোগীদের ব্যবস্থাপনায় বয়স, লিঙ্গ, রোগভোগের কাল, ব্যথার ধরন, গিরা জমে যাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইতিহাস নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগটি প্রদাহজনিত কি না, তা সুস্পষ্টরূপে নির্ধারণ করা, সম–অসম প্রদাহ কি না, অস্থিসন্ধির বিকৃতি, অস্থিসন্ধি ব্যতীত অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ও আক্রান্ত অস্থিসন্ধির সংখ্যা অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে বলে সেমিনারে জানানো হয়।
এ রোগ হলে অস্থিসন্ধি প্রদাহের ৮০ শতাংশ রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে রোগের ইতিহাস থেকে, ১৫ শতাংশ শারীরিক লক্ষণ এবং মাত্র ৫ শতাংশ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে।
অস্থিসন্ধির প্রদাহ বলতে বোঝায় ফুলে যাওয়া, তরল পদার্থ নিঃসরণজনিত অবস্থা। অস্থিসন্ধি বা হাড়ের গিরায় ব্যথা, গায়ে ব্যথা, মাংসে ব্যথা ইত্যাদি আর্থ্রাইটিসের প্রধান লক্ষণ। তবে এই রোগ শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শতকরা ৫ দশমিক ৫ জন বাতজনিত রোগের কারণে কর্মক্ষমতা হারান। পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি বাত রোগে ভোগেন। শহরের চেয়ে গ্রামের লোকজন বেশি বাতজনিত রোগে ভোগেন। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা নিলে কার্যক্ষমতা হারানো থেকে মুক্ত হওয়া যায় বলে জানান বক্তারা।
সেন্ট্রাল সাবকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান।

দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবকে শিশুদের জন্য একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সংস্থাটি বলেছে, এ পরিস্থিতি শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে এবং তাৎক্ষণিক, সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশে হামের রোগী বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগী ফেরত না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শয্যা সংকটের কারণ দেখিয়ে কোনো রোগীকে অন্যত্র পাঠানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। সে সঙ্গে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৭০ জনের। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৪ জন।
১৭ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৯ জনের। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জনে। একই সময় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে।
২ দিন আগে