দৌড়বিদ হিসেবে তিনি কিংবদন্তি। অলিম্পিকের ট্র্যাকে যখন তিনি দৌড়ান, কোটি মানুষের চোখ থাকে তাঁর দিকে। ১১টি অলিম্পিক মেডেলজয়ী ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট অ্যালিসন ফেলিক্স এখন লড়ছেন এক অন্য রকম ট্র্যাকে। এবার তাঁর লড়াই নিজের জন্য নয়, বরং কর্মজীবী মা এবং সেবাদানকারীদের বিশ্রামের জন্য অধিকার আদায়।
মা হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, শরীর আর মনের পূর্ণ বিকাশের জন্য বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক অধিকার। তাঁর জীবনদর্শন ও বিশ্রামের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা তিনি জানিয়েছেন সবার উদ্দেশে। ছুটি নেওয়া বা বিশ্রাম নেওয়া মানে পিছিয়ে পড়া নয়; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার জন্য এটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ। অ্যালিসন ফেলিক্সের ভাষায়, জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হলে এবং দীর্ঘকাল সচল থাকতে হলে বিশ্রামকে নিজের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আগে নিজে বাঁচুন
বিখ্যাত এই অ্যাথলেট বলেছেন, আমরা এমন একসময়ে বাস করছি, যেখানে ‘ছুটিহীন জীবন’ বা ‘কষ্ট সয়ে এগিয়ে যাওয়া’কে বীরত্ব হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়। তাঁর সহজ দর্শন হলো, আগে নিজের জন্য বাঁচুন। অর্থাৎ, আপনি যদি নিজে সুস্থ এবং সতেজ না থাকেন, তবে অন্যদের যত্ন নেওয়া বা নিজের সেরা কাজটা দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য শরীর ও মনকে সময় দেওয়া অপরিহার্য।
বিশ্রাম কেন বিজ্ঞানের চোখেও জরুরি
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, আমরা যখন কঠোর পরিশ্রম বা ব্যায়াম করি, তখন আমাদের পেশি ও কোষে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্র বা মাইক্রো টিয়ার তৈরি হয়। ব্যায়ামের সময় নয়, বরং বিশ্রামের সময়ই আমাদের শরীর এই ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে, পেশি আরও শক্তিশালী করে তোলে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে দীর্ঘ মেয়াদে বার্ন আউট, হৃদ্রোগ কিংবা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য টিপস
» পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
» বিশ্রামের দিন: সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রম থেকে পুরোপুরি বিরতি দিন।
» অ্যাকটিভ রিকভারি: খুব ক্লান্তি অনুভব করলে হালকা হাঁটা, ইয়োগা বা সাইক্লিং করতে পারেন।
» সঠিক পুষ্টি: ডায়েটে প্রোটিন ও শর্করার সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখুন।
মায়েদের দ্বিগুণ লড়াই এবং পেইড লিভ
অ্যালিসন ফেলিক্স এখন দুই সন্তানের মা। তিনি অনুভব করেন, কর্মজীবী মায়েরা অসুস্থ অবস্থায় থাকলেও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের অসুস্থতাজনিত সবেতন ছুটি নেই। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ যত্নকারী অসুস্থ অবস্থায়ও কাজ করেন শুধু আয়ের চিন্তায়। অ্যালিসন থেরাফ্লুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফেলিক্স এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এ ছাড়া এমন পরিবারগুলোকে তিনি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, যারা অসুস্থতার জন্য কাজ করতে না পেরে নিদারুণ সংকটে পড়েছে।
অ্যালিসনের বর্তমান জীবন ও প্রেরণা
৪০ বছর বয়সে এসেও অ্যালিসন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে এখন তাঁর রুটিন অলিম্পিক অ্যাথলেট হিসেবে আগের চেয়ে ভিন্ন। তিনি সাহায্য চাইতে দ্বিধা করেন না। যখন তাঁর খুব ক্লান্তি লাগে, তিনি পরিবারের সাহায্য নেন এবং নিজের জন্য সময় বের করেন। তিনি বৈচিত্র্যময় ব্যায়াম করেন। শুধু ট্র্যাক নয়, এখন তিনি টেনিস খেলেন, পিলাটিস করেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে হাঁটতে বের হন। তবে দিন শেষে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাধান্য দেন অ্যালিসন। ক্যালেন্ডারে তিনি নিজের আনন্দের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখেন। অ্যালিসন মনে করেন, মাতৃত্বই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সন্তানদের চোখে আগামীর সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন তিনি। অ্যালিসন ফেলিক্সের মতে, সাফল্যের সংজ্ঞা এখন আর শুধু মেডেলে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে অন্যের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
সূত্র: হেলথ লাইন

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, বাহক হলে বিয়েতে সমস্যা হবে। এ কারণে অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলে বা মেয়ের একজন বাহক হলে সাধারণত ঝুঁকি থাকে না; সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দুজনই বাহক হন। তাই বিয়ের আগে পরীক্ষা করানোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। অন্যদিকে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৫ জনে। হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪৩।
১৬ ঘণ্টা আগে
থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। তাই সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
১৯ ঘণ্টা আগে
হামে মৃত্যুর হিসাব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের গরমিল দেখা গেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামে মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রোগে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তার থেকে বেশি। রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ...
১ দিন আগে