
হামে মৃত্যুর হিসাব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের গরমিল দেখা গেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামে মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রোগে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তার থেকে বেশি। রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে রোগতাত্ত্বিক প্রতিবেদন তৈরি ও নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের দুর্বলতা থেকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোগতত্ত্ববিদেরা।
গত ১৫ মার্চ থেকে হামের চলতি সংক্রমণ নিয়ে রোগী শনাক্ত, উপসর্গে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের হিসাবে দেখা যায়, সারা দেশে হামের উপসর্গে ২৭৯ এবং নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর শরীরে আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২০৮ শিশুর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের হিসাবের অমিল ধরা পড়েছে। আজকের পত্রিকা গতকাল পাঁচটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্রীয় তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যে অমিল পেয়েছে।
অধিদপ্তর বলছে, বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ১২ জন ও নিশ্চিত হামে ৫ জন মারা গেছে। তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, বিভাগটিতে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২২ শিশু ও নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৩ শিশু। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভাগের ছয় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আমাদের কার্যালয়ে নিয়মিত তথ্য আসে। সিভিল সার্জনরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেন।’
ময়মনসিংহে এখন পর্যন্ত একজন হাম উপসর্গে এবং দুজন নিশ্চিত হামে মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, এই বিভাগে নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যুর তথ্য ঠিক থাকলেও হাম উপসর্গে মারা গেছে ২৬ শিশু।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সিভিল সার্জন অফিস থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো তথ্যে কিছু হিসাব বাদ পড়েছে। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘মূলত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হওয়া মৃত্যুর তথ্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠায়নি। এতে কিছু তথ্য বাদ পড়েছে। বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রামে হামের উপসর্গে ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে গতকাল সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে হামের উপসর্গে ৩২ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু এবং রোগের বিস্তারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয় হয়ে এমআইএসে যুক্ত হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদ করে প্রতিদিনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। সংক্রামক রোগের আক্রান্ত, মৃত্যু, বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি এবং হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নিয়মিত এই শাখা থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার কর্মকর্তারা জানান, পুরো স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা একটি নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যেখানে রোগী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সবার এই সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার নেই। উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয় নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে এমআইএসে পাঠায়। আর রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলো সরাসরি স্বতন্ত্রভাবে তাদের তথ্য এমআইএসে যুক্ত করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে হামের পরিসংখ্যানে গরমিল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য যথাযথভাবে এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের তথ্যের মধ্যে গরমিল থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘৬৪টি সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রতিদিন তথ্য পাঠানোর কথা। এরপর আমরা তা একত্র করি। কয়েকটি জেলা থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা ওই সব বিভাগীয় পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।’
যেকোনো রোগসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের নির্দেশিকায় বলেছে, রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক-পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। তথ্য যদি অসম্পূর্ণ বা অসংগত হয়, তাহলে রোগের প্রকৃত মাত্রা ও গতিপ্রকৃতি সঠিকভাবে বোঝা যায় না। ফলে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব ঘটে এবং নীতিনির্ধারণে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কর্তৃপক্ষের মধ্যে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখানোর প্রবণতা থাকে। আইইডিসিআরের সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনেক সময় ওপর মহলকে সন্তুষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়। পরিসংখ্যান সঠিক না থাকা একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বল চিত্র প্রকাশ করে। পরিসংখ্যান সঠিক না হলে রোগের প্রাদুর্ভাব কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কেননা তখন অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। অন্যদিকে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৯ জনে। হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৬।
১২ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
২ দিন আগে
দেশে এবার সংক্রামক রোগ হাম সংক্রমণ শনাক্তের হার ৪২ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করলে প্রায় অর্ধেকেই রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে একটি মাত্র পরীক্ষাগার থাকা ও কিটের সংকটের কারণে পরীক্ষা কম হওয়ায় সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
২ দিন আগে
স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে পরিচালিত ‘৫৬ হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে’ শীর্ষক মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলার মনিরাম বাজারসংলগ্ন হাফিজ ইব্রাহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আ
২ দিন আগে