Ajker Patrika

হজমপ্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও সমাধান

ফিচার ডেস্ক
হজমপ্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও সমাধান
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের শরীর খাবারকে কীভাবে শক্তিতে রূপান্তর করে, তা নির্ভর করে মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর। এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে শরীরে মেদ জমে, ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজের শক্তিতে ঘাটতি দেখা দেয়। তবে জীবনের কিছু সাধারণ ভুল ও অভ্যাস মেটাবলিজমকে আরও ধীর করতে পারে।

যেসব ভুলের কারণে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়

  • মেদ কমাতে গিয়ে হঠাৎ খুব কম ক্যালরি খেলে শরীর মনে করে, খাবারে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে সে ক্যালরি জমানো শুরু করে এবং মেটাবলিজম কমিয়ে দেয়।
  • প্রোটিনের পরিপাক প্রক্রিয়ায় শরীরের শক্তি খরচ হয় বেশি। তাই প্রোটিন কম খেলে মেটাবলিক রেট কমে যায়। এ ছাড়া আয়োডিন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের ঘাটতিও মেটাবলিজমকে ধীর করে।
  • রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে কিংবা নাইট শিফটে কাজ করার ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ক্ষুধাবর্ধক হরমোন বেড়ে যায় এবং রক্তের শর্করা বাড়ে। পাশাপাশি অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস অথবা অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দিয়ে মেটাবলিজম থমকে দেয়।
  • যদি পেশির পরিমাণ কমে যায়, তাহলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। অলস জীবনযাপন এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়াম কিংবা ওয়েট লিফটিং না করলে ক্যালরি বার্ন হওয়ার হার অনেক কমে যায়।
  • অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। আবার একদম কার্বোহাইড্রেট না খেলেও শরীর ঠিকমতো ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। ফলে মেটাবলিজম বাধাগ্রস্ত হয়।

কীভাবে বুঝবেন, আপনার মেটাবলিজম ধীর

ধীর মেটাবলিজমের কারণে সব সময় শারীরিক ক্লান্তি অথবা শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে। তবে ওজন কমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া কিংবা নখ ভেঙে যাওয়া এবং হজমের সমস্যা দেখা দেওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। এ ছাড়া শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিকমতো যদি বজায় না থাকে, তাহলে প্রায়ই অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।

এ ছাড়া জিনগত কারণ, বয়স বৃদ্ধি বা কিছু ওষুধের কারণেও মেটাবলিজম কমতে পারে।

সঠিক উপায় বা সমাধান

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিন্তামুক্ত জীবন এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ধীরগতির বিপাক প্রক্রিয়ার সমস্যা কাটিয়ে শরীর সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব। এ জন্য আপনি যা করতে পারেন—

  • ক্র্যাশ ডায়েট না করে পুষ্টিকর শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
  • শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার কোনো বিকল্প নেই।
  • রাত জাগা বন্ধ করে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করা অত্যন্ত জরুরি।
  • ঘর অতিরিক্ত গরম না রেখে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখলে তা শরীরের ক্যালরি বার্নকারী ব্রাউন ফ্যাট বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আয়োডিনযুক্ত লবণ ও দুধ থেকে তৈরি খাবার মেটাবলিজম সচল রাখতে ভূমিকা রাখে।

সূত্র: হেলথ লাইন, মায়ো ক্লিনিক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত