মদ্যপানের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। অনেকে মনে করেন, অল্প পরিমাণ মদ শরীরের তেমন ক্ষতি করে না। কিন্তু অতিরিক্ত কিংবা ভেজাল মদ পান চোখের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মিথানলযুক্ত ভেজাল মদ চোখের অপটিক নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
» ভেজাল বা অবৈধ মদে প্রায়ই মিথানল নামক বিষাক্ত উপাদান থাকে। শরীরে প্রবেশের পর মিথানল ভেঙে ফরমিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা চোখের অপটিক নার্ভের কোষ ধ্বংস করে।
» দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণে শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতি তৈরি হয়, যা অপটিক নিউরোপ্যাথির কারণ হয়ে যেতে পারে।
» অতিরিক্ত মদ্যপানে লিভার ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব চোখেও পড়ে।
মদ্যপানের কারণে চোখ আক্রান্ত হলে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
» হঠাৎ ঝাপসা দেখা
» চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসা
» রং চিনতে সমস্যা হওয়া
» চোখে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
» মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব
» আলোতে তাকাতে কষ্ট হওয়া
» দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে যাওয়া
» গুরুতর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব
কারা বেশি ঝুঁকিতে
» নিয়মিত অতিরিক্ত মদ পানকারী ব্যক্তি
» ভেজাল বা অবৈধ মদ গ্রহণকারী
» অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ
» ডায়াবেটিস বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
» ধূমপানের সঙ্গে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে
চিকিৎসক রোগনির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করে থাকেন। সেগুলো হলো—
» চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা
» ফান্ডাস পরীক্ষা
» অপটিক নার্ভ মূল্যায়ন
» রক্তে মিথানলের মাত্রা নির্ণয়
» সিটি স্ক্যান বা এমআরআই
» রক্তের অ্যাসিড-বেস ভারসাম্য পরীক্ষা
মদ্যপানের কারণে চোখের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে যা মেনে চলতে হবে—
» রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে
» মিথানল বিষক্রিয়ায় বিশেষ অ্যান্টিডোট ব্যবহার করা হয়
» প্রয়োজনে ডায়ালাইসিস করা হয়
» ভিটামিন বি১, বি৬ ও বি১২ দেওয়া হয়
» চোখের স্নায়ু রক্ষায় স্টেরয়েড বা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে
» সম্পূর্ণভাবে মদ্যপান বন্ধ করতে হবে
» চিকিৎসায় দেরি হলে দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না-ও হতে পারে
» মদ পানের অভ্যাস বাদ দিতে হবে
» হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে
» সুষম খাদ্য ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে
» পরিবার ও সমাজে মদ্যপানের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে
» তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী শিক্ষা জোরদার করা জরুরি
ডা. মো. আরমান হোসেন রনি, কনসালট্যান্ট (চক্ষু), দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৬ জন।
১৮ ঘণ্টা আগে
দেশের আট বিভাগের পাঁচটিতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত রোগী এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বর্তমান আইন সমস্যাকে বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তরুণদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে বক্তারা আইন পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও সহমর্মিতার ওপর জোর দেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০২ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০০ জন।
২০ ঘণ্টা আগে