Ajker Patrika

আত্মহত্যাকে অপরাধ গণ্য করায় এসব সমস্যা আরও বাড়ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৪৮
আত্মহত্যাকে অপরাধ গণ্য করায় এসব সমস্যা আরও বাড়ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আঁচল ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। ছবি: আজকের পত্রিকা

আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বর্তমান আইন এ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে আরও বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, আলোচনা করে এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এম এ মুহিত বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আইনে আত্মহত্যার বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটা তো অপরাধ না, এর ফলে এ-সম্পর্কিত সমস্যাগুলো আরও বাড়ছে। আমি আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে সেখানেও কাজ করার সুযোগ আছে।’

একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে কীভাবে তুলে ধরা যায়, সে চেষ্টা করবেন বলেও জানান এম এ মুহিত।

উপজেলা পর্যায় থেকে উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্র পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোতে চায় বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ ও কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

জেলা ও উপজেলাভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যকাঠামো গড়ে তুলতেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন এম এ মুহিত।

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগে জোর দেওয়া হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি মৃত্যুহার কমানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায় চিকিৎসকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান এম এ মুহিত। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন আগাম মজুত করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবেই তাঁদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সবার মানসিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা এক নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রধান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সায়েদুল ইসলাম সাইদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রতি এক লাখে প্রায় ১৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে তরুণদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘যাঁরা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, আমরা তাঁদের অপরাধী মনে করি। এটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ক্ষেত্রে বর্তমান আইন পরিবর্তন নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে। যাঁরা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করেন, তাঁরা মূলত অসুস্থতা থেকে করেন। অসুস্থ মানুষকে আমরা অপরাধী বলতে পারি না।’

সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ তানসেন। বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা, ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নওফেল জমির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় পেশাজীবী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত