ফাতেমা সিদ্দিকী

যেসব খাবার তালিকায় রাখবেন
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনাটা জরুরি। এ জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের সহায়তা নিতে হবে।
হোল গ্রেন
সকালের নাশতায় হোল গ্রেন খাবার নিয়মিত রাখলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে বহুগুণে। যেমন: ওটস, ব্রাউন রাইসের ছাতু, ব্রাউন বা রেড রাইস, বার্লি, কাউন।
লিন প্রোটিন
চর্বি ছাড়া মাছ, বিশেষ করে স্যামন ও সার্ডিন মাছ, যা ওমেগা ৩ এর চমৎকার উৎস, চামড়া ছাড়া মুরগি, ডিম, ছোলা, বাদাম ইত্যাদি রাখুন খাবারের তালিকায়।
বেশি পরিমাণে শাক সবজি
গাড় সবুজ শাক ও সবজি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলির মতো সবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। তা ছাড়া বিট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় লিভারের প্রদাহ কমায়।
ফলমূল
আঙুর ও ব্লুবেরি লিভারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের স্তর ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫. কম চর্বি বা চর্বিহীন দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার।
৬. স্বাস্থ্যকর চর্বি, যেমন বাদাম, এভোকেডো, অলিভ ওয়েল, সরিষার তেল ইত্যাদি।
আক্রান্ত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যে খাবারগুলোকে বেছে নিতে হবে:
উচ্চ আঁশযুক্ত জটিল শর্করা
বেশির ভাগ ক্যালরি শর্করা থেকেই সরবরাহ করতে হবে, যাতে কোষের আমিষ ভেঙে না যায়। রোগী মুখে খেতে না পারলে বা বমি ও জ্বর থাকলে ইন্টার ভেনাস ফিডিংয়ের মাধ্যমে গ্লুকোজ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্রুট জুস, চিনি, মধু, গুড় পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইটস সরবরাহ করে থাকে। রোগী মুখে খেতে পারলে হোল গ্রেন দিতে হবে। এর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উচ্চ প্রোটিন
লিভার কোষের পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন খেতে হবে রোগীকে। প্রোটিনের পরিমাণ রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে, যা পুষ্টিবিদ অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চর্বিহীন মাছ ও মুরগি, ডিম, পরিমাণমতো সয়া প্রোটিন, বাদাম, টফু, চর্বিহীন পনির ইত্যাদি খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। যদি অরুচি থাকে, সে ক্ষেত্রে ডিম ও মাছ বা মাংসের সুপ দেওয়া ভালো।
ফল
ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। যেমন, আপেল যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কমলা বা টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি–এর উৎস, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আঙুরে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সবজি
মাশরুম, গাজর, শাক ইত্যাদির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি লিভারের কোষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করবে। তবে এ সময় টমেটো, বাঁধাকপি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
অসম্পৃক্ত চর্বি
ভাজা পোড়া, ট্রান্সফ্যাট এ সময় অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে অলিভ ওয়েল, সরিষা তেল বা ক্যানোলা তেল।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, সুপ, জুস প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
ফাতেমা সিদ্দিকী: ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট, বেটার লাইফ হসপিটাল, রামপুরা
আরও পড়ুন

যেসব খাবার তালিকায় রাখবেন
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনাটা জরুরি। এ জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের সহায়তা নিতে হবে।
হোল গ্রেন
সকালের নাশতায় হোল গ্রেন খাবার নিয়মিত রাখলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে বহুগুণে। যেমন: ওটস, ব্রাউন রাইসের ছাতু, ব্রাউন বা রেড রাইস, বার্লি, কাউন।
লিন প্রোটিন
চর্বি ছাড়া মাছ, বিশেষ করে স্যামন ও সার্ডিন মাছ, যা ওমেগা ৩ এর চমৎকার উৎস, চামড়া ছাড়া মুরগি, ডিম, ছোলা, বাদাম ইত্যাদি রাখুন খাবারের তালিকায়।
বেশি পরিমাণে শাক সবজি
গাড় সবুজ শাক ও সবজি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলির মতো সবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। তা ছাড়া বিট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় লিভারের প্রদাহ কমায়।
ফলমূল
আঙুর ও ব্লুবেরি লিভারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের স্তর ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫. কম চর্বি বা চর্বিহীন দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার।
৬. স্বাস্থ্যকর চর্বি, যেমন বাদাম, এভোকেডো, অলিভ ওয়েল, সরিষার তেল ইত্যাদি।
আক্রান্ত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যে খাবারগুলোকে বেছে নিতে হবে:
উচ্চ আঁশযুক্ত জটিল শর্করা
বেশির ভাগ ক্যালরি শর্করা থেকেই সরবরাহ করতে হবে, যাতে কোষের আমিষ ভেঙে না যায়। রোগী মুখে খেতে না পারলে বা বমি ও জ্বর থাকলে ইন্টার ভেনাস ফিডিংয়ের মাধ্যমে গ্লুকোজ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্রুট জুস, চিনি, মধু, গুড় পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইটস সরবরাহ করে থাকে। রোগী মুখে খেতে পারলে হোল গ্রেন দিতে হবে। এর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উচ্চ প্রোটিন
লিভার কোষের পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন খেতে হবে রোগীকে। প্রোটিনের পরিমাণ রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে, যা পুষ্টিবিদ অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চর্বিহীন মাছ ও মুরগি, ডিম, পরিমাণমতো সয়া প্রোটিন, বাদাম, টফু, চর্বিহীন পনির ইত্যাদি খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। যদি অরুচি থাকে, সে ক্ষেত্রে ডিম ও মাছ বা মাংসের সুপ দেওয়া ভালো।
ফল
ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। যেমন, আপেল যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কমলা বা টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি–এর উৎস, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আঙুরে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সবজি
মাশরুম, গাজর, শাক ইত্যাদির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি লিভারের কোষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করবে। তবে এ সময় টমেটো, বাঁধাকপি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
অসম্পৃক্ত চর্বি
ভাজা পোড়া, ট্রান্সফ্যাট এ সময় অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে অলিভ ওয়েল, সরিষা তেল বা ক্যানোলা তেল।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, সুপ, জুস প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
ফাতেমা সিদ্দিকী: ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট, বেটার লাইফ হসপিটাল, রামপুরা
আরও পড়ুন

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা...
৪ দিন আগে
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত নয়, এতে ক্ষতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন নিরাপদ নয় এবং এতে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এই ওষুধ না গ্রহণের পক্ষে নারীদের ‘প্রাণপণে লড়াই’ করা উচিত।
৪ দিন আগে
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে।
৪ দিন আগে
ওজন কমানোর নামে খাবার তালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া এখন একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সবার আগে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে