
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই আগুন দেওয়া হয় মাশরাফি বিন মর্তুজার বাড়িতে। বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রোশে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁর নড়াইলের বাড়ি। তিনি দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ থেকে নড়াইল–২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও মারধর করার অভিযোগে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাঁর বাবা গোলাম মুর্তজাসহ ৯০ জনের নামে একটি মামলা হয়েছে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মাশরাফির বক্তব্য দাবিতে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে মাশরাফিকে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে মাশরাফির মতো কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘ঘরবাড়ি লুট করে, ঘরে আগুন দিয়ে ঘরছাড়া করেছেন, এখন আবার মামলাও দিচ্ছেন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সামলাতে পারবেন তো?’
ভিডিওটি ‘শেখ ইমরানুল ইসলাম (Sheikh Emranul Islam)’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১০ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। দেখা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার বার। পোস্টটিতে কমেন্ট পড়েছে প্রায় ৩০০। এসব কমেন্টে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য ধরে মন্তব্য করেছেন।
আবু হানিফ নামে একজন লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ মাশরাফি ভাই, দেখিয়ে দেন আমরা পারি। সবাই এক হলে বাংলার মতো ক্ষমতা কারও নেই, আর যদি একা হয়ে যায় সহজে ভাঙতে পারে। আমরা আবার জাগব, একত্রিত হব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনব। ইনশাআল্লাহ! ইয়া রাসুল আল্লাহ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’
মেহেদী হাসান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘প্রিয় ক্যাপ্টেন, আপনার মত সবাই এভাবে আওয়াজ তোলা উচিত এখন।’
আব্দুল্লাহ আল আমিন আকন্দ লিখেছেন, ‘এমন সাহসী নেতাকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দরকার। ৫ তারিখের পর যখন সবাই চুপ ছিলেন, তখন মাশরাফি একাই আওয়ামী লীগের হয়ে কথা বলেছেন। আপনাকে সালাম ক্যাপ্টেন।’
মাশরাফির বক্তব্য দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে দৈনিক জনকণ্ঠের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি গত ৪ জুলাই চ্যানেলটিতে পোস্ট করা হয়। ৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির শিরোনাম, ‘মাদক–যৌতুক–বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখবে ছাত্রলীগ।’
ভিডিওটি গত ৩ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে বিএসএল আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ২০২৪–এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাশরাফি দেশ গঠনে ও মাদক–যৌতুক–বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা, মাদক দূরীকরণে খেলাধুলার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ইনডোর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানান।
এই ভিডিওটিই এডিট করে মাশরাফির মতো কণ্ঠের একটি অডিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেই অডিওতে শোনা যায়, ‘ঘরবাড়ি লুট করে ঘরে আগুন দিয়ে ঘরছাড়া করেছেন, এখন আবার মামলাও দিচ্ছেন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সামলাতে পারবেন তো?’
ভিডিওটি খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কথা এবং মাশরাফির ঠোঁটের নড়াচড়ায় মিল নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট দুর্বৃত্তের আগুনে বাড়ি পুড়ে গেলেও মাশরাফি এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। কেন মামলা করতে চান না, সেটির ব্যাখ্যায় আজকের পত্রিকাকে মাশরাফি জানিয়েছেন, মামলা তিনি করতে চান না নিজের মান–মর্যাদার দিকে তাকিয়ে। এখানে অবশ্য মনবেদনাও আছে তাঁর ৷ মাশরাফি মনে করেন, বাড়ি যারা পুড়িয়েছেন, তাঁদের বাড়ি নড়াইলের বাইরে হওয়ার কথা নয় ৷ নিজের জেলার মানুষের বিরুদ্ধে তিনি কোনো অভিযোগ করতে চান না।
আরও পড়ুন—

‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১ দিন আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
৩ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
৩ দিন আগে