ফ্যাক্টচেক /সাজেক ‘জেএলএ’ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে দাবিতে সাজেকের ছবি শেয়ার আযমীর

সম্প্রতি রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে—সাজেকের পুরো এলাকা এখন ‘জুম্মা লিবারেশন আর্মি (JLA)’ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে।
Hello Jummo People’s নামের ফেসবুক পেজে পোস্টটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘সাজেক এখন ঘন্ডুস মুক্ত। সাজেকের পুরো এলাকা এখন মুক্তিকামী জুম্ম জনতার একমাত্র ভরসাস্থল JLA বাহিনীর দখলে। প্রিয় পর্যটক ভাইয়েরা পাগল হয়ে আর আন্দাজে সাজেকে প্রবেশ করবেন না। যে কোন মুহুর্তে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে...’
একই পোস্ট শেয়ার করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী লেখেন, ‘দেশের অখন্ডতা হুমকির মুখে ... আমরা কবে জাগবো??? ভারত সরকার তাদের সাবেক সেনাপ্রধানকে সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছে। তারই নেতৃত্বে এখন এসব চলছে। দু’দিন আগেই তারা পর্যটকদের জিম্মি করেছিল। সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছে...’
এ ছাড়া ‘Private University Students Alliance of Bangladesh - PUSAB’ নামের পেজ থেকেও পোস্টটি শেয়ার করতে দেখা যায়। ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রচারিত পোস্টটি পর্যবেক্ষণে চারটি ছবি পাওয়া যায়। প্রথম ছবিতে পাহাড়ি ঘাসে ঢাকা একটি খোলা জায়গায় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখা যায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবিতে সামরিক পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে পাথুরে ঝিরিপথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। চতুর্থ ছবিতে গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখা কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান করে ‘Kyaw Zayar’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে গত বছরের ২০ আগস্ট শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। বার্মিজ ভাষায় ‘বাড়ি থেকে দূরে পালিয়ে আসার পর দেখি, রোদও যেন আরও বেশি গরম হয়ে উঠেছে। রাস্তাটাও যেন আরও দীর্ঘ মনে হচ্ছে। খুব ক্লান্ত লাগছে, মা!’—ক্যাপশনে শেয়ার করা ওই ছবির সঙ্গে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া পোস্টের প্রথম ছবির মিল রয়েছে।

অনুসন্ধানে ওই অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ১২ জুলাই ‘একেকজন করে সবাই যখন বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে খুব কষ্ট হয়। আমাদের এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রিয় মাতৃভূমিকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে চলে যাও। যেদিন আমরা সবকিছু নতুন করে, সবচেয়ে ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারব, সেদিন তোমরা আবার ফিরে আসবে, তাই না?’—ক্যাপশনে শেয়ার করা আরও একটি ছবি পাওয়া যায়। ছবিটির সঙ্গে ভাইরাল পোস্টের চতুর্থ ছবির মিল রয়েছে।

আরও অনুসন্ধানে একই অ্যাকাউন্টে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আমাদের একসঙ্গে লড়াই করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’—ক্যাপশনে ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল পোস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবির সাদৃশ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ‘Kyaw Zayar’ অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এর বায়োতে ‘Yebaw Black’ নামের পাশাপাশি মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের ‘পাককোকু জেলা ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন’-এর উল্লেখ রয়েছে।
সিদ্ধান্ত
সাজেক ‘জুম্মা লিবারেশন আর্মি বা জেএলএ’ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং সেখানে পর্যটকেরা জিম্মি বা ঝুঁকিতে আছেন—এমন দাবিটি বানোয়াট। মূলত, ভাইরাল পোস্টের ছবিগুলো সাজেকের নয়, বরং এগুলো মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের সংঘাত ও সেখানকার বিদ্রোহী সশস্ত্র বাহিনীর পুরোনো ঘটনার চিত্র।









