Ajker Patrika

ফ্যাক্টচেক /মানিকগঞ্জের চুরির ঘটনার ভিডিওকে জয়পুরহাটে মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতন দাবিতে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৪৪
মানিকগঞ্জের চুরির ঘটনার ভিডিওকে জয়পুরহাটে মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতন দাবিতে প্রচার
জয়পুরহাটে মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

বিএনপির সন্ত্রাসীরা জয়পুরহাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা লীগ নেত্রীকে গণধর্ষণ ও চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও একই ভিডিও কুড়িগ্রাম জেলা যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে নির্যাতনের দাবিতে প্রচার করা হয়।


আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিপর্যবেক্ষণ দেখা যায়, একজন নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে, তিনি কাঁদছেন। তবে ভিডিওর ক্যাপশনে কুড়িগ্রামের যুব মহিলা লীগ নেত্রীর কথা বলা হলেও ঘটনাটি কবে ও কোথায় ঘটেছে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের উল্লেখ নেই। জাতীয় গণমাধ্যমেও জয়পুরহাটে এমন কোনো রাজনৈতিক নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে চলতি বছরের ২০ মে আজকের পত্রিকা ‘মানিকগঞ্জে চুরির ঘটনাকে কুড়িগ্রামে আ. লীগ নেত্রীকে নির্যাতন বলে প্রচার’ শিরোনামে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার টেপরা এলাকায় চুরির অভিযোগে এক নারীকে স্থানীয়দের মারধর ও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার ভিডিও।

সে সময় মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজকের পত্রিকাকে জানান, ওই নারী শিবালয় থানার অন্তর্গত টেপরা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করেন। স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং মারধর ও মাথার চুল কেটে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে শিবালয় থানা-পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার ও আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী ‘লোভে পড়ে চুরি’র করার কথা স্বীকার করেন। ওসি আরও জানান, যে ব্যক্তির বাড়িতে চুরি হয়েছে তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি চুরির মামলা করেছেন এবং পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

সিদ্ধান্ত

মানিকগঞ্জের একটি চুরির ঘটনার পুরোনো ভিডিওকে নতুন দাবিতে পুনরায় ছড়ানো হচ্ছে, যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত