
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামের বিগ্রহ (মূর্তি) নির্মাণে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি ২ কোটি টাকা সহায়তা করবেন—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল ৫ জুলাই ‘Nani Gopal Biswas’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত দাবিতে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটিতে হাজারের ওপর রিয়েকশন, কয়েকশ কমেন্ট ও শেয়ার রয়েছে। ভিডিওটির কমেন্ট পর্যালোচনা করে নেটিজেনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। একাংশ দাবিটিকে সত্য মনে করে ধোনিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার অন্য অংশ এটিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দাবি করছেন—মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতীয় এক গণমাধ্যমে পলাশবাড়ীতে রামের বিগ্রহ নির্মাণের কাজে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ধোনি তারেক রহমানের সরকারকে কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন, অন্য খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে এসে ওই মন্দির দর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ধোনি ঠিক কোন গণমাধ্যমে বা কবে এই কথা বলেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র ওই ভিডিওতে পাওয়া যায়নি।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো অনুসন্ধান করা হলেও এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা বিবৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ‘Nani Gopal Biswas’ অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যে ব্যক্তি পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণে মহেন্দ্র সিং ধোনীর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে এই মূর্তি নির্মাণ সম্পর্কিত বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট করেছেন। ওই ব্যক্তি এর আগে আফগান প্রধানমন্ত্রী, আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান , ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দাবি করে ভিডিও পোস্ট করেছেন। উল্লেখিত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে রাম মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের নিন্দা জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিওগুলোতে কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি কোনো গণমাধ্যমেও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি অ্যাকাউন্টিতে একাধিক পোস্ট ও ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভারত থেকে আপনাদের পাশে আছি, আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছি।’
অনুসন্ধানে জানা (১, ২ ) যায়, সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে একটি বড় রাম বিগ্রহ (মূর্তি) নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ বলে দাবি করার পর স্থানীয় এটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
ইমাম ওলামা পরিষদ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তাঁদের দাবি, রংপুর বিভাগের মতো একটি স্পর্শকাতর অঞ্চলে প্রকাশ্যে এত বড় মূর্তি ও রিসোর্ট স্পট বানানো হলে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ১১ জুন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাম বিগ্রহের নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয় মন্দির কমিটি। কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত গণমাধ্যমকে জানান, কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাঙালি। সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে মন্দিরের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।’
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণে মহেন্দ্র সিং ধোনির ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া বক্তব্যটি বানোয়াট। মূলত, রাম মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে ধোনিসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করছি বাংলাদেশে মাঝপথে আ.লীগকে নিয়ে আরেকটি নির্বাচন হবে’— এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্য একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অবমাননা ও কটাক্ষ করায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩ জুলাই আলোচিত দাবিতে ফেসবুকের একাধিক...
১ দিন আগে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক শিশু আরেক শিশুকে বারবার চড়, থাপ্পড় ও কামড় দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসা তৃতীয় একটি শিশুও আক্রমণের শিকার হয়।
৪ দিন আগে
ছবিটি শেয়ার করে একটি এক্স অ্যাকাউন্টে আরবি ভাষায় দাবি করা হয়, ‘১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ আসরের একটি বিরল ছবি। আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি, কেউ কি বলতে পারবেন এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কোন দুটি জাতীয় দল মুখোমুখি হয়েছিল? চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন এবং উত্তর বের করার চেষ্টা করুন।’
৪ দিন আগে