
জনপ্রিয় ও দেশবরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে, হানিফ সংকেত বলেছেন—‘শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট নয়, শেখ হাসিনা হলো বাংলাদেশ গড়ার আর্টিস্ট।’
‘Md jasim uddin joy’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত ফটোকার্ডটি শেয়ার করে ক্যাপশনে বলা হয়, জনাব হানিফ সংকেত ভাই ঠিক বুঝতে পেরেছেন। ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশের জনগণও বুঝবে এবং জননেত্রীকে খুঁজবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য, পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা দাবিটিকে সত্য মনে করে কমেন্ট করছেন।
ভাইরাল ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এর ওপরের অংশে ‘১৭ জুন’ এবং ‘ফ্রিডম বাংলা নিউজ’ লেখা রয়েছে। তবে হানিফ সংকেত কবে, কোথায় বা কোন প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ফটোকার্ডে উল্লেখ নেই।
অনুসন্ধানে ‘ফ্রিডম বাংলা নিউজ’-এর ফেসবুক পেজে গিয়ে ১৭ জুনের এমন কোনো পোস্ট বা ফটোকার্ডের পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে চলতি বছরের ২৫ মার্চ শেয়ার করা একই ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। মূলত ওই পুরোনো ফটোকার্ডটিকেই নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে চলতি বছরের ২২ মার্চ শেয়ার করা আরও একটি পোস্ট পাওয়া যায়। তবে ওই পোস্টে হানিফ সংকেত বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামের উল্লেখ নেই। ফলে আলোচিত ফটোকার্ডে হানিফ সংকেতের নাম ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।

হানিফ সংকেতের মতো একজন বরেণ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যদি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন কোনো বক্তব্য দিতেন, তবে তা দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচারিত হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো খবরের অস্তিত্ব মেলেনি।
বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে হানিফ সংকেতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসন্ধান চালায় আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। অনুসন্ধানে গত ২৬ মার্চ তাঁর পেজে শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়।
পোস্টে তিনি তাঁর নাম জড়িয়ে ছড়ানো ভুয়া ফটোকার্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখেন, ‘সুহৃদ, আমি দীর্ঘদিন ধরেই আমার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি কথা বলে আসছি—সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট বা শেয়ার করা শুধু অন্যায় নয়, অপরাধও। দুঃখজনক হলেও সত্য, সম্প্রতি আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ফটোকার্ড পাঠিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উক্ত ফটোকার্ডের কথাগুলো আমার উপস্থাপনা শৈলীর অনুকরণে ছন্দবদ্ধভাবে লেখা হলেও, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ...দীর্ঘ চার দশক ধরে আমি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই নিরপেক্ষতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। আমার প্রকৃত বক্তব্য, উক্তি বা ফটোকার্ড কেবল আমার নিজস্ব ভেরিফাইড প্ল্যাটফর্ম এবং স্বীকৃত গণমাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যটি জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের নয়। একটি পুরোনো ও সম্পাদিত ফটোকার্ড নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্য কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ছাগল চুরি করতে এলে স্থানীয় জনতা তাঁকে ধরে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দাবির সপক্ষে রশি দিয়ে বাঁধা এক ব্যক্তির ছবিও প্রচার করা হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের একটি শোরুমে ঢুকে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং শোরুমের সবকিছু হাতিয়ে নিয়েছে—এমন দাবিতে একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং এটি নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে—এমন একটি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
বিএনপির শাসনামলে আমাদের মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদ নয়—এমন দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
২ দিন আগে