
লাঠিসোঁটা হাতে একটি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু ও তাদের মন্দিরে হামলার ঘটনা।
‘Kreately.in’ নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ এপ্রিল সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ওই ভিডিওটি ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা ৩ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ৩ হাজার ৮০০ রিয়েকশন এবং ২ হাজার ২০০ রিপোস্ট রয়েছে।
একই দাবিতে ‘Ashok Singhal’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। সেখানে ইংরেজি ভাষায় দাবি করা হয়, বাংলাদেশে হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতি এমনই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আর ৫ বছর ক্ষমতায় থাকেন তাহলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও একই অবস্থা তৈরি হবে। সুতরাং, বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিও বাংলা।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা; ঘটনার নেপথ্যে কী?’ শিরোনামে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল শেয়ার করা ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।

ওই ভিডিও থেকে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামীম রেজা নামের এক কথিত পীরকে স্থানীয় কিছু লোক পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় তাঁর আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, কোনো কারণেই মব তৈরি করে এ ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন’ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ বাংলায় প্রকাশিত ‘কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে হত্যা’ শিরোনামের প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

ভিডিওটি ছড়ানো এক্স অ্যাকাউন্টগুলোর প্রোফাইল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই ভারতের ব্যবহারকারী দ্বারা পরিচালিত। অ্যাকাউন্টগুলোতে সাধারণত রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডামূলক কনটেন্ট শেয়ার করে থাকে।
সিদ্ধান্ত
কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে হত্যা এবং তাঁর আস্তানায় ভাঙচুরের ভিডিওকে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্টগুলো থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে।

যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সৌদি আরব গিয়ে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা এবং তাঁকে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরতে না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সৌদি সরকার—এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টগুলোতে আরও বলা হচ্ছে, এই মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ নিজেই।
৮ মিনিট আগে
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে মানসিক শক্তি কমে যায়, মনোযোগ নষ্ট হয় কিংবা দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ বাড়ে—এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
‘আজকে (১৯ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটেছে। হজের যাত্রী নিয়ে রাস্তার মধ্যে গাড়িটি উল্টে যায়। তারা সবাই বাংলাদেশি হজযাত্রী ছিল এবং সবাই মারা গেছে’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে আরও বলা হচ্ছে, নিহতদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছাতে লাইক ও শেয়ার করতে।
১ দিন আগে
‘যেখানে আমার মতামতের কোনো মূল্যই দেওয়া হয় না, সেখানে থেকে আমি কী করব। আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই’—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে