Ajker Patrika

ফ্যাক্টচেক /শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে মেলোনির বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে মেলোনির বক্তব্যটি এআই দিয়ে তৈরি
শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে মেলোনির বক্তব্যের দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইতালিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

আলোচিত দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে

গত ৯ জুলাই ‘ocean jain’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে জার্মান ও ইতালীয় পতাকাবাহী একটি পোডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইতালিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে দেব না। আমি জর্জিয়া মেলোনি। আমি একজন খ্রিস্টান। আমি ইতালির কন্যা।’

শেয়ার করা ভিডিওটির কমেন্ট ও রিয়েকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ভিডিওটিকে সত্য মনে করেছেন। ওই পোস্টের কমেন্টে একজনকে বলতে দেখা যায়, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদি কি এভাবে কথা বলতে পারবেন?’ অন্য আরেকজন বলেন, ‘একদম ঠিক—যে দেশ ইসলামি দেশ নয়, সেখানে শরিয়াহ আইনের কী কাজ, আর কেনই বা তা সেখানে বাস্তবায়ন করা হবে?’

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে জর্জিয়া মেলোনির এমন কোনো বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে রয়টার্সের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘Reuters Connect’-এ জর্জিয়া মেলোনির একাধিক ছবি পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।

রয়টার্সের ছবির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ছবিটি ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ইতালির রোমের ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে অনুষ্ঠিত ইতালি-জার্মানি আন্তঃসরকারি শীর্ষ সম্মেলন শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সময় তোলা। ওই সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যারৎসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এবং পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

রয়টার্সের ছবি। ছবি: স্ক্রিনশট
রয়টার্সের ছবি। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ইতালীয় সরকারের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ‘Palazzo Chigi’-তে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারির ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনের বর্ধিত ভিডিও পাওয়া যায়। ৫০ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে জর্জিয়া মেলোনি কোনো ইংরেজি কথাই বলেননি। পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়ে তিনি ইতালীয় ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া রয়টার্সের প্রকাশিত ছবি এবং ‘Palazzo Chigi’-এর ইউটিউব চ্যানেলে থাকা মূল ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ভাইরাল ভিডিওতে জর্জিয়া মেলোনির ব্লেজারের ওপর একটি কালো তার ঝুলতে দেখা গেলেও রয়টার্সের ছবি ও ভিডিওতে এমন কোনো তার দেখা যায় না। পাশাপাশি মেলোনির কানের দুলেও স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া ভাইরাল ভিডিওটির সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো, এর ডান পাশের নিচের কোণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok AI)-এর ওয়াটারমার্ক চিহ্ন। এটি ইঙ্গিত করে যে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

কম্পেরিজান। ছবি: স্ক্রিনশট
কম্পেরিজান। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ মডারেশন’-এর সাহায্য নেওয়া হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটির অডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯১ শতাংশেরও বেশি।

এআই বিশ্লেষণ। ছবি: স্ক্রিনশট
এআই বিশ্লেষণ। ছবি: স্ক্রিনশট

সিদ্ধান্ত

ইতালিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বানোয়াট। মূলত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় জার্মানির চ্যান্সেলরের সঙ্গে মেলোনির একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পুরোনো ভিডিওর আদলে তৈরি একটি এআই ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত