
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতার একটি মসজিদে হিন্দুরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘সময় সংবাদ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৭ মে দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে ভিডিওটি সম্ভাব্য প্রথম শেয়ার করা হয়। আজ ৯ মে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে এবং ১৩ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে। ভিডিওর কমেন্ট বক্সে অনেক ব্যবহারকারী একে সত্য ঘটনা মনে করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক কমেন্ট করছেন, আবার কেউ কেউ একে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে চিহ্নিত করে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ভারতীয় কোনো গণমাধ্যমে কলকাতায় এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এমন কোনো অগ্নিসংযোগের খবর মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে নেই।
পরবর্তীতে ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘Kashmir Post’ নামের একটি ফেসবুক পেজে হুবহু একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছিল, এটি শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় (দারুল উলুম) লাগা আগুনের দৃশ্য।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর ওয়েবসাইটে ১০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘On Camera, Flames Leap Into The Air As Fire Breaks Out In Srinagar Mosque’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকায় ‘জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম’ নামক মসজিদ ও মাদ্রাসায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রতিবেদনে দমকল বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, আগুনের লেলিহান শিখা অনেক ওপর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত তৎপরতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। একই ধরনের প্রতিবেদন কাশ্মীর অবজার্ভার-সহ ভারতের একাধিক প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

অর্থাৎ, মাসখানেক আগে কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওকে বর্তমানে কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মসজিদে উগ্র হিন্দুদের দেওয়া আগুনের দাবিতে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মসজিদে আগুন দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরে গত এপ্রিলে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসায় অগ্নিকাণ্ডের।

প্রচারিত ভিডিওতে নীল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ঠেন (কাছ থেকে) না শুনে আর এমপির ঠেন না শুনে যেন কোনো নিউজ হয় না কিন্তু। ঠিক আছে?’ এ সময় অন্য একজনকে সায় দিয়ে ‘আচ্ছা’ বলতে শোনা যায়।
৫ মিনিট আগে
নাটোরে যুবলীগ কর্মীকে না পেয়ে মায়ের কোল থেকে শিশুসন্তানকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিয়ে হত্যার চেষ্টা—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেনীর জনগণ নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
‘আহা, বাংলাদেশ! যে দেশে কোনো আইন নেই, নারীর নিরাপত্তা নেই’—এমন ক্যাপশনে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে ফুল দিতে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে বিবস্ত্র করে অমানবিক...
৩ দিন আগে